কলকাতা/মালদা: মালদার কালিয়াচক কাণ্ড কি নিছক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্তকারীদের মনে। পুলিস ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ১ এপ্রিলের ঘটনা আকস্মিক নয়—বরং পূর্বপরিকল্পিত।
তদন্তে উঠে আসছে এক রহস্যময় চরিত্র—‘মসীহা’। অভিযোগ, ইটাহারের বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে ওই দিন কালিয়াচকে নিয়ে আসা হয়েছিল। জাতীয় সড়কে যেখানে স্বাভাবিক যাতায়াতই প্রায় অসম্ভব ছিল, সেখানে কীভাবে তিনি পৌঁছে গেলেন, জনতার মাঝে উঠে প্ররোচনামূলক বক্তব্য দিলেন এবং নির্বিঘ্নে সরে গেলেন—তা নিয়েই তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
পুলিসের একাংশের দাবি, এই ‘মসীহা ইমেজ’ গড়ে তোলার পিছনে ছিল সুসংগঠিত প্রচার কৌশল। ঘটনাস্থলে তাঁর আসা বা যাওয়ার স্পষ্ট ভিডিও না থাকলেও, মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁকে ‘বিপন্ন মানুষের রক্ষাকর্তা’ হিসেবে তুলে ধরা অসংখ্য ভিডিও। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এর পিছনে সক্রিয় ছিল একটি সংগঠিত আইটি নেটওয়ার্ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনতার মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে প্রতিবাদের দৃশ্য কিংবা গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখার স্টাইল—সবই সাম্প্রতিক বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া আন্দোলনের কৌশলের সঙ্গে মিল খুঁজে দিচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—মালদায় কি তবে সেই ‘মডেল’-এরই ছায়া?
অন্যদিকে, বেলডাঙা কাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছে ঝাড়খণ্ডে বসে ‘স্ক্রিপ্ট’ তৈরির অভিযোগে মৌলানা শওকত আলি আলবানির নাম। মালদার ক্ষেত্রেও তেমন কোনও ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মোফাক্কেরুলের ব্যাংক লেনদেনের সাম্প্রতিক কিছু তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই অস্থিরতার পিছনে থাকতে পারে আর্থিক মদত বা ‘স্পনসরড মোটিভেশন’।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তাদের প্রাথমিক অনুমান, আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থির করার লক্ষ্যে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা কাজ করেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারীরা। কিন্তু একের পর এক প্রশ্ন ঘিরে স্পষ্ট—কালিয়াচক কাণ্ড শুধুই তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়, এর নেপথ্যে আরও গভীর কোনও চিত্র লুকিয়ে থাকতে পারে।
বিষয় : West Bengal malda

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন