ঢাকা: বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবালের কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর পক্ষে লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন ফার্ম কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবালের বিচারকের প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক পরিচালিত বিচার কার্যক্রমে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায়, প্রসিকিউশন ও দণ্ড বেআইনি এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মৌলিক আইনি অধিকার লঙ্ঘন করে।
অনুপস্থিতিতে বিচার, গুরুতর প্রশ্ন
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থায় গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনুপস্থিতিতে এমন বিচার শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য, এবং সেক্ষেত্রেও কঠোর ন্যায্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করা আবশ্যক।
চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই কার্যক্রমের বৈধতা স্বীকার বা এতে অংশগ্রহণ করা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে নয়। তিনি তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়ার এখতিয়ার, গঠন, পরিচালনা এবং ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সকল প্রযোজ্য ফোরামে সংরক্ষণ করেছেন।
চিঠিতে পাঁচটি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে:
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রদত্ত রায় ও দণ্ড অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
ভবিষ্যৎ বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক ন্যায্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি অনুযায়ী ট্রাইবুনাল ও বাংলাদেশ সরকারকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী এই ঘটনার উপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, ন্যায্য বিচার নিশ্চিত না করা হলে এবং মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলে তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। এই ঘটনার ফলে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের প্রতি আন্তর্জাতিক প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিকার ও সময়সীমা
চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা তার সকল আইনি অধিকার সংরক্ষণ করছেন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামসহ সকল প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে প্রতিকার চাইবেন। চিঠির উত্তর ১৪ দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই চিঠি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কার্যক্রমের বৈধতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে সরকারপক্ষ এটিকে আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সমালোচকেরা এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলেই উল্লেখ করেছেন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন