পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ফের একবার চমক দিল বিজেপি। গতবারের মতো এবারও গেরুয়া শিবির ভরসা রেখেছে পেশায় পরিচারিকা কলিতা মাজির ওপর। যাঁর দিন কাটে অন্যের বাড়ি বাসন মেজে বা ঘর ঝাঁট দিয়ে, সেই কলিতাই এখন আউশগ্রামের বিধায়ক হওয়ার লড়াইয়ে প্রধান মুখ। তবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই নতুন করে দানা বেঁধেছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কলিতা মাজির প্রার্থিপদ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এসআইআর (SIR)-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার কলিতা মাজির নামের পাশে লেখা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন। অর্থাৎ, তাঁর ভোটার পরিচয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি। তৃণমূলের দাবি, যাঁর নিজের ভোট দেওয়া নিয়েই সংশয় রয়েছে, তাঁকে কীভাবে প্রার্থী করল বিজেপি? একে ‘কমিশনের সঙ্গে বিজেপির আঁতাত’ বলে তোপ দেগেছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিতর্ক থাকলেও দমে যাওয়ার পাত্রী নন কলিতা। তিনি জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় কিছু অসঙ্গতির কারণে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল এবং তিনি সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “আমরা সাত বোন, বাকিদের নাম উঠলে আমার নাম কেন উঠবে না? আমি আত্মবিশ্বাসী যে সব ঠিক হয়ে যাবে।” আপাতত প্রচারের খাতিরে পরিচারিকার কাজ থেকে ছুটি নিয়েছেন তিনি। গৃহকর্তারাও তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২১ সালের নির্বাচনেও এই আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন কলিতা। সেবার তৃণমূলের অভেদানন্দ থাণ্ডারের কাছে পরাজিত হলেও ৮৮ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। এবারও সেই চেনা ময়দানে ঘরের মেয়ের ইমেজে ভর করেই বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি।
তৃণমূল যখন একে আইনি মারপ্যাঁচে বিঁধতে চাইছে, বিজেপি তখন একে শাসকদলের ‘ভীতি’ হিসেবেই দেখছে। আউশগ্রামের মানুষ শেষ পর্যন্ত কার ওপর ভরসা রাখেন—ভোটার তালিকায় নাম থাকা নিয়ে ঝুলে থাকা সিদ্ধান্তের পর সেটা এখন বড় প্রশ্ন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন