নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি লড়াই এবার আরও জোরালো হলো। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং নথি গ্রহণ না করার অভিযোগে শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চে সওয়াল করেন যে, বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় নথিও রেকর্ড করা হচ্ছে না। এই ভোটাররা আগে নিয়মিত ভোট দিলেও বর্তমানে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে দাবি করে রাজ্য। তবে প্রধান বিচারপতি পাল্টা পর্যবেক্ষণে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এভাবে আবেদন করা যায় না।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের যুক্ত করা হয়েছিল এবং তাঁদের নির্দেশকেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করার কথা জানানো হয়েছিল। সোমবার সেই আইনি জটিলতার মধ্যেই মেনকা গুরুস্বামী আর্জি জানান যাতে এই নতুন অভিযোগগুলিকেও মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। প্রধান বিচারপতি আবেদনটি পুরোপুরি খারিজ না করে রাজ্যকে মঙ্গলবার মূল মামলার শুনানির সময় উপস্থিত থাকতে বলেছেন। মঙ্গলবারই ঠিক হবে এই বিষয়টিকে আদালত কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিচার করবে।
অন্যদিকে, এসআইআর তালিকায় স্থান না পেয়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (CAA)-এর আওতায় আবেদনকারীরাও পৃথকভাবে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের এই ভিন্ন আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আদালতের হাতে আরও অনেক কাজ রয়েছে। একই সময়ে কলকাতায় যখন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে ব্যস্ত এবং ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসেছেন, ঠিক তখনই দিল্লির এই আইনি জলঘোলা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। মঙ্গলবারের শুনানির ওপরই এখন নির্ভর করছে কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ।
বিষয় : Supreme Court of India CJI

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন