রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা মেটানোর বিষয়ে ফের নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে প্রথম কিস্তির ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে শীর্ষ আদালতে সময় বাড়ানোর আবেদন করল রাজ্য সরকার।
আদালতে পেশ করা আবেদনে রাজ্য মূলত তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছে:
বিশাল ডেটাবেস ও হিসাবের জটিলতা: রাজ্য জানিয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ পাওয়ার যোগ্য বর্তমানে কর্মরত ৩,১৭,৯৫৪ জন কর্মচারী। এছাড়া কয়েক লক্ষ পেনশনভোগীর সম্পূর্ণ তথ্য রাজ্য সরকারের বদলে সিএজি (C&AG) দপ্তরে রয়েছে।
অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল সমস্যা: ডিজিটাল মাধ্যমে বেতনের রেকর্ড কেবল ২০১৬ সাল থেকে উপলব্ধ। তার আগের হিসাব মেলাতে কয়েক লক্ষ হাতে লেখা ‘সার্ভিস বুক’ পরীক্ষা করতে হবে, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ।
নির্বাচনী ব্যস্ততা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই অল্প সময়ের মধ্যে এত বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অসম্ভব বলে দাবি নবান্নের।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মার্চের মধ্যে সমস্ত বকেয়া মেটাতে। কিন্তু রাজ্য নতুন আবেদনে জানিয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
ফেব্রুয়ারি মাসেই আদালত কড়া নির্দেশ দিলেও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা গোড়া থেকেই রাজ্যের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে নবান্নে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের বাধায় তা সরাসরি সম্ভব হয়নি। এবার রাজ্যের এই নতুন ‘সময় চাওয়া’ আবেদন আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলল।
এখন দেখার, রাজ্যের এই যুক্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সন্তুষ্ট হয় কি না, নাকি বকেয়া মেটানোর জন্য কড়া অবস্থান বজায় রাখে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন