Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

১৬ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ! কর্ণাটকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সিদ্দারামাইয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০২৬
১৬ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ! কর্ণাটকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সিদ্দারামাইয়ার

বেঙ্গালুরু: শৈশব বাঁচাতে এবার কড়া দাওয়াই। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চলেছে কর্ণাটক সরকার। শুক্রবার রাজ্যের বাজেট পেশ করতে গিয়ে এই বড়সড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। দেশের মধ্যে কর্ণাটকই প্রথম রাজ্য, যারা সরকারিভাবে এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানাল।


মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। মনোবিদদের এই আশঙ্কার নিরিখে সরকার মনে করছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে পড়াশোনায় মনঃসংযোগ কমছে এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাজেটে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি এই সামাজিক ইস্যুটিকেও অগ্রাধিকার দিয়েছে কর্ণাটক সরকার।


এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গত রবিবার রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করবে সরকার। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে বয়সের সত্যতা যাচাই করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।


কর্ণাটক প্রথম পদক্ষেপ করলেও, এই দৌড়ে একা নেই তারা। তথ্য বলছে, গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশ - এই দুই রাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চালাচ্ছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করেছে।


মনোবিদ ও সমাজকর্মীদের মতে, এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তাঁদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা ক্ষতিকর কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু কিশোর-কিশোরীদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল আইনের মাধ্যমে কতটা সফল হবে, নাকি এতে অভিভাবকদের সচেতনতাও সমান জরুরি — তা নিয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে।


ডিজিটাল যুগে শিশুদের ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করাতে কর্ণাটক সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে ভারতের প্রযুক্তি আইনে বড় বদল আনতে পারে। এখন দেখার, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টরা এই নির্দেশ কার্যকর করতে কর্ণাটক সরকারকে কতটা সহযোগিতা করে।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


১৬ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ! কর্ণাটকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সিদ্দারামাইয়ার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
বেঙ্গালুরু: শৈশব বাঁচাতে এবার কড়া দাওয়াই। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সমাজমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে চলেছে কর্ণাটক সরকার। শুক্রবার রাজ্যের বাজেট পেশ করতে গিয়ে এই বড়সড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। দেশের মধ্যে কর্ণাটকই প্রথম রাজ্য, যারা সরকারিভাবে এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানাল।মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। মনোবিদদের এই আশঙ্কার নিরিখে সরকার মনে করছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে পড়াশোনায় মনঃসংযোগ কমছে এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাজেটে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি এই সামাজিক ইস্যুটিকেও অগ্রাধিকার দিয়েছে কর্ণাটক সরকার।এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গত রবিবার রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন প্রকাশ করবে সরকার। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে বয়সের সত্যতা যাচাই করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।কর্ণাটক প্রথম পদক্ষেপ করলেও, এই দৌড়ে একা নেই তারা। তথ্য বলছে, গোয়া ও অন্ধ্রপ্রদেশ - এই দুই রাজ্যও ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চালাচ্ছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই এই ধরনের নিয়ম কার্যকর করেছে।মনোবিদ ও সমাজকর্মীদের মতে, এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। তাঁদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা ক্ষতিকর কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তু কিশোর-কিশোরীদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে, এই নিষেধাজ্ঞা কেবল আইনের মাধ্যমে কতটা সফল হবে, নাকি এতে অভিভাবকদের সচেতনতাও সমান জরুরি — তা নিয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে।ডিজিটাল যুগে শিশুদের ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করাতে কর্ণাটক সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে ভারতের প্রযুক্তি আইনে বড় বদল আনতে পারে। এখন দেখার, সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টরা এই নির্দেশ কার্যকর করতে কর্ণাটক সরকারকে কতটা সহযোগিতা করে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার