কলকাতা ও চেন্নাই: পশ্চিমবঙ্গের রাজভবনে ফের সংঘাতের মেঘ? প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের পর এবার বাংলার পরবর্তী রাজ্যপাল হিসেবে আসছেন আইপিএস অফিসার থেকে রাজনীতির আঙিনায় আসা রবীন্দ্র নারায়ণ রবি (R.N. Ravi)। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ তিক্ততা এবং সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন তিরস্কারকে সঙ্গী করেই কলকাতায় পা রাখছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই সিদ্ধান্তে ইতিপূর্বেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কে এই আর.এন. রবি?
সাবেক আইপিএস অফিসার রবি একসময় জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (IB)-র অধিকর্তা এবং জাতীয় উপ-নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে কাজ করেছেন। নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল থাকার পর ২০২১ সালে তাঁকে তামিলনাড়ুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মূলত শ্রীলঙ্কার নিষিদ্ধ সংগঠন এলটিটিই (LTTE)-র সক্রিয়তা রুখতে এবং দক্ষিণ উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গোয়েন্দা বিভাগের এই অভিজ্ঞ মুখকে চেন্নাই পাঠিয়েছিল কেন্দ্র।
‘দ্বিতীয় ধনকড়’ এবং সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা
পশ্চিমবঙ্গে জগদীপ ধনকড় থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে যে ধরণের সংঘাত দেখা দিয়েছিল, তামিলনাড়ুতে এম.কে. স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে রবির সম্পর্ক ছিল ঠিক ততটাই আদায়-কাঁচকলায়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ, নজিরবিহীনভাবে বিধানসভায় পাশ হওয়া ১২টি বিল প্রায় তিন বছর ধরে রাজভবনে আটকে রেখেছিলেন তিনি। বিল আটকে রাখা নিয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলে, শীর্ষ আদালত রবির আচরণকে ‘সংবিধান ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের পরিপন্থী’ বলে তিনবার কঠোরভাবে তিরস্কার করে। যা ভারতীয় ইতিহাসে কোনো রাজ্যপালের ক্ষেত্রে বিরল। তামিলনাড়ু রাজ্যের নাম বদলে ‘তামিঝগম’ করার প্রস্তাব দিয়ে ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়েন তিনি।
মন্ত্রী বরখাস্তের চেষ্টা ও পিছু হটা
২০২৪-এর শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনকে চিঠি লিখে এক মন্ত্রীকে বরখাস্ত করার পরামর্শ দিয়ে সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি করেছিলেন রবি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্ট্যালিন সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সেই রাতেই নিজের চিঠি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন রবি। শোনা যায়, স্বয়ং অমিত শাহ তাঁকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
বাংলার রাজভবনে নতুন অধ্যায়
এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে জগদীপ ধনকড়ের সম্পর্ক যে তলানিতে ঠেকেছিল, রবির রেকর্ড দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তেমনই এক সংঘাতময় পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজে ‘সমান্তরাল প্রশাসন’ চালানোর যে অভিযোগ ধনকড়ের বিরুদ্ধে ছিল, রবির তামিলনাড়ু-অধ্যায় সেই স্মৃতিকেই উস্কে দিচ্ছে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন