Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

স্কুলে ঢুকতে পারছেন না টলমল পায়ে, বাথরুমে মদের বোতল! বোলপুরে মদ্যপ প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্কুলে ঢুকতে পারছেন না টলমল পায়ে, বাথরুমে মদের বোতল! বোলপুরে মদ্যপ প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা যেন আরও একবার সামনে এল। এবার ঘটনাস্থল বীরভূমের বোলপুর। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে আসছেন, এই অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বাহীড়ি-পাঁচশোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ, শিক্ষক মহাশয় এতটাই মত্ত ছিলেন যে ঠিকমতো দাঁড়াতে বা কথা বলতে পারছিলেন না। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুল চত্বরেই তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান।

১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে খাতায়-কলমে প্রায় ১০০ জন পড়ুয়া থাকলেও গড়ে মাত্র ৩০ জন স্কুলে আসে। দুইজন শিক্ষকের মধ্যে একজন দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় গোটা স্কুলের দায়িত্ব ছিল প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সরকারের ওপর। কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি ঠিকমতো স্কুলেই আসেন না। প্রতিদিন কচিকাঁচারা স্কুলের বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ হলো—তিনি প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে ঢোকেন। এমনকি স্কুলের বাথরুম থেকেও মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।


শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সরকার যখন স্কুলে পৌঁছান, তখন তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। স্থানীয়দের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালাতে গিয়ে তিনি পড়ে যান এবং বাইকটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পড়ুয়ারা সকাল থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি যখন স্কুলে ঢোকেন, তখন তাঁর জিভ জড়িয়ে যাচ্ছিল। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি অসংলগ্নভাবে দাবি করেন, "বাইক খারাপ হয়ে গ্যারেজে ছিল, তাই দেরি হয়েছে। অন্যদিন আমি ঠিক সময়েই আসি।" তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা অন্য কথাই বলছিল।


গত এক দশকে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও শিক্ষকের অভাব, কোথাও পড়ুয়া নেই, আবার কোথাও পরিকাঠামোর অভাব। বোলপুরের এই ঘটনা যেন সেই ক্ষততে নুনের ছিটে দিল। যেখানে একজন শিক্ষকের আদর্শ দেখে ছাত্রছাত্রীদের শেখার কথা, সেখানে প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। দীর্ঘক্ষণ ছাত্রছাত্রীরা রোদে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর স্কুল অকাল ছুটি হয়ে যাওয়াটাও এখন এই স্কুলের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


স্কুলে ঢুকতে পারছেন না টলমল পায়ে, বাথরুমে মদের বোতল! বোলপুরে মদ্যপ প্রধান শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটা যেন আরও একবার সামনে এল। এবার ঘটনাস্থল বীরভূমের বোলপুর। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে আসছেন, এই অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল বাহীড়ি-পাঁচশোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ, শিক্ষক মহাশয় এতটাই মত্ত ছিলেন যে ঠিকমতো দাঁড়াতে বা কথা বলতে পারছিলেন না। ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা স্কুল চত্বরেই তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান।১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলে খাতায়-কলমে প্রায় ১০০ জন পড়ুয়া থাকলেও গড়ে মাত্র ৩০ জন স্কুলে আসে। দুইজন শিক্ষকের মধ্যে একজন দীর্ঘ ছুটিতে থাকায় গোটা স্কুলের দায়িত্ব ছিল প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সরকারের ওপর। কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ, তিনি ঠিকমতো স্কুলেই আসেন না। প্রতিদিন কচিকাঁচারা স্কুলের বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থাকে। শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবথেকে বড় অভিযোগ হলো—তিনি প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় স্কুলে ঢোকেন। এমনকি স্কুলের বাথরুম থেকেও মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ প্রধান শিক্ষক শুভেন্দু সরকার যখন স্কুলে পৌঁছান, তখন তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। স্থানীয়দের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালাতে গিয়ে তিনি পড়ে যান এবং বাইকটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পড়ুয়ারা সকাল থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি যখন স্কুলে ঢোকেন, তখন তাঁর জিভ জড়িয়ে যাচ্ছিল। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি অসংলগ্নভাবে দাবি করেন, "বাইক খারাপ হয়ে গ্যারেজে ছিল, তাই দেরি হয়েছে। অন্যদিন আমি ঠিক সময়েই আসি।" তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা অন্য কথাই বলছিল।গত এক দশকে রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও শিক্ষকের অভাব, কোথাও পড়ুয়া নেই, আবার কোথাও পরিকাঠামোর অভাব। বোলপুরের এই ঘটনা যেন সেই ক্ষততে নুনের ছিটে দিল। যেখানে একজন শিক্ষকের আদর্শ দেখে ছাত্রছাত্রীদের শেখার কথা, সেখানে প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। দীর্ঘক্ষণ ছাত্রছাত্রীরা রোদে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর স্কুল অকাল ছুটি হয়ে যাওয়াটাও এখন এই স্কুলের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।এই ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার