কলকাতা: আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঘর গোছাতে শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সেই আবহেই এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এল। ভোটের লড়াইয়ে নামতে চেয়ে দলের কাছে আবেদন জানালেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। এই উদ্দেশ্যেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে নিজের বায়োডাটা বা জীবনপঞ্জি জমা দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের খবর, গত ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রিঙ্কু মজুমদার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে এক পদাধিকারীর হাতে নিজের আবেদনপত্রটি তুলে দেন। সেখানে তিনি তিনটি নির্দিষ্ট বিধানসভা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ক্রমান্বয়ে এই তিনটি পছন্দের আসন হল - মেদিনীপুর শহর, বীজপুর এবং নিউ টাউন।
আবেদনপত্রে রিঙ্কু জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দলের তৃণমূল স্তরে সক্রিয় কর্মী হিসাবে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থেকেছেন। সাপুরজির প্রাক্তন এই বাসিন্দা নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার খতিয়ান তুলে ধরে নিজেকে ‘সক্রিয় নেত্রী’ হিসাবে দাবি করেছেন।
রিঙ্কু মজুমদারের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে নজর কেড়েছে বিজেপির নতুন প্রচার কৌশল। সোশ্যাল মিডিয়ায় আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশ সমস্যার মতো ইস্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই ধারাবাহিক ভিডিয়ো ও তথ্যচিত্র প্রকাশ করছে পদ্ম শিবির। তবে, শুধু ডিজিটাল মাধ্যমেই নয়, এবার ছাপানো বইয়ের আকারেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে চলেছে তারা।
বঙ্গ বিজেপির পক্ষ থেকে এই নামে একটি ৩০ পাতার বই (আঁধারের কথকথা) প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি — দুই ভাষাতেই এই বই পাওয়া যাচ্ছে। বইটিতে মূলত যে বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে, তা হল - রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান, বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান পরিসংখ্যান, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কঙ্কালসার চেহারা, শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান সঙ্কট প্রভৃতি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে দলের অন্দরে নতুন মুখ হিসাবে রিঙ্কু মজুমদারের উত্থান এবং অন্যদিকে ‘আঁধারের কথকথা’র মতো সঙ্কলনের মাধ্যমে শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে তারা এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন