নয়াদিল্লি ও ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, মহম্মদ ইউনূসের সদ্য-প্রাক্তন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) থেকে বর্তমানে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে বিদেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন খলিলুর রহমান। তবে, তাঁর এই উত্তরণ এবং অতীত অবস্থান নিয়ে কূটনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র কাটাছেঁড়া। বিশেষ করে ভারতের প্রতি তাঁর পূর্বতন মনোভাব এবং মার্কিন প্রভাব বলয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
মাস আটেক আগে প্যারিস-ভিত্তিক এক ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি ভারতের দীর্ঘ সমর্থনের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, হাসিনা সরকারের পতন ভারতের বিদেশ নীতির জন্য এক ‘বিশাল ধাক্কা’। এমনকী, তিনি এও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ভারতের পক্ষে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টে যায়।
প্রশ্ন উঠছে, একসময় ভারতের কড়া সমালোচনা করা এই কূটনীতিক কি এখন ক্ষমতার পালাবদলের পর ভারতের প্রতি নমনীয় হবেন, নাকি নিজের পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকবেন?
খলিলুর রহমানকে নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, তিনি আদতে ওয়াশিংটনের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে এনএসএ থাকাকালীন বোয়িং বিমান কেনা বা অঘোষিত বাণিজ্যিক চুক্তির মতো সিদ্ধান্তগুলিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। এমনকী, ওহিওতে স্থায়ী আবাস থাকা এই কূটনীতিকের ঘনঘন কাতার বা যুক্তরাষ্ট্রে সফর এবং সেখানকার গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথিত গোপন বৈঠক নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি।
বর্তমানে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। বিশেষ করে মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে তিনি কতটা সচেষ্ট হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
খলিলুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, রাখাইন রাজ্যে 'মানবিক করিডোর' তৈরির প্রস্তাব দিয়ে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেই সময় সময়োচিত হস্তক্ষেপ করে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেন।
এর ফলে ঢাকা সেনানিবাসে খলিলুর রহমানের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা আজও বলবৎ রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রী হিসেবে এখন তাঁর অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে সেনাপ্রধানকে চাপে রাখা, যা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের পর খলিলুর রহমান যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রকটি বাগিয়ে নিয়েছেন, তাতে তাঁর রাজনৈতিক চাতুর্য স্পষ্ট। তবে, তাঁর ‘দেশপ্রেম’ এখন বড়সড় পরীক্ষার মুখে। তিনি কি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করবেন, নাকি বিদেশি প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়িত করবেন? ভারত ও আমেরিকার দ্বৈরথে তাঁর অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোন দিকে হেলে পড়ে, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করছে দক্ষিণ এশিয়ার আগামীর ভূ-রাজনীতি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন