Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বাঙালি কূটনীতিকের অভিজ্ঞতাতেই ভরসা? বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই-কমিশনার কে হচ্ছেন জানেন?

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাঙালি কূটনীতিকের অভিজ্ঞতাতেই ভরসা? বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই-কমিশনার কে হচ্ছেন জানেন?

নয়াদিল্লি ও ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটাতে এবার অভিজ্ঞতার উপরই বাজি ধরছে ভারত। বর্তমান হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মার উত্তরসূরি হিসেবে জাকার্তায় নিযুক্ত ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তীর নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে দক্ষিণ ব্লক সূত্রে খবর। ১৯৯৬ ব্যাচের এই দুঁদে কূটনীতিক এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যখন বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিপুল জয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলে সন্দীপ চক্রবর্তীকে বেছে নেওয়ার পিছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে। যথা - 


পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত সংযোগ: ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সন্দীপ চক্রবর্তী ঢাকায় ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাংলাদেশের মাঠ-ময়দানের রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো তাঁর নখদর্পণে। এছাড়া, তিনি বাংলাভাষী হওয়ায় সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে বাড়তি সুবিধা পাবেন।


উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান মজবুত করতে সন্দীপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে নিউইয়র্ক ও ইউরোপ পশ্চিম বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসাবে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা কূটনীতিতে তাঁর বহুমুখী দক্ষতার প্রমাণ দেয়।


২০২২ সালের অক্টোবর থেকে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের বর্তমান ভারতীয় হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মা এখনই ঢাকা ছাড়ছেন না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার থিতু হওয়া পর্যন্ত আরও কয়েক সপ্তাহ তিনি দায়িত্ব সামলাবেন। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল, তখন নেপথ্যে থেকে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে ভার্মাকেই।


আগামী দিনে সন্দীপ চক্রবর্তীর সামনে প্রধান কাজ হবে, মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ‘অবিশ্বাস’ দূর করে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে বিএনপি-র সম্পর্ক কিছুটা শীতল হলেও, জয়ী হওয়ার পর তারেক রহমান এবং জামায়াত নেতৃত্ব ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগানোই হবে বড় লক্ষ্য। জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা প্রায় ৭০টি আসন পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের শান্তি বজায় রাখা সন্দীপ চক্রবর্তীর জন্য আরও এক অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে।


আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট’ বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলেই সন্দীপ চক্রবর্তী ঢাকায় তাঁর কার্যভার গ্রহণ করবেন। তাঁর এই নিয়োগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারত এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘রক্ষণাত্মক’ নীতি ছেড়ে অত্যন্ত কৌশলী ও সক্রিয় ‘এনগেজমেন্ট’-এর পথে হাঁটতে চাইছে।

বিষয় : India Bangladesh High Commisioner IFS

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বাঙালি কূটনীতিকের অভিজ্ঞতাতেই ভরসা? বাংলাদেশের পরবর্তী ভারতীয় হাই-কমিশনার কে হচ্ছেন জানেন?

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি ও ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন মেটাতে এবার অভিজ্ঞতার উপরই বাজি ধরছে ভারত। বর্তমান হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মার উত্তরসূরি হিসেবে জাকার্তায় নিযুক্ত ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রদূত সন্দীপ চক্রবর্তীর নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে দক্ষিণ ব্লক সূত্রে খবর। ১৯৯৬ ব্যাচের এই দুঁদে কূটনীতিক এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যখন বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিপুল জয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলে সন্দীপ চক্রবর্তীকে বেছে নেওয়ার পিছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে। যথা - পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ভাষাগত সংযোগ: ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সন্দীপ চক্রবর্তী ঢাকায় ডেপুটি চিফ অফ মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাংলাদেশের মাঠ-ময়দানের রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামো তাঁর নখদর্পণে। এছাড়া, তিনি বাংলাভাষী হওয়ায় সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে বাড়তি সুবিধা পাবেন।উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান মজবুত করতে সন্দীপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে নিউইয়র্ক ও ইউরোপ পশ্চিম বিভাগের যুগ্ম সচিব হিসাবে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা কূটনীতিতে তাঁর বহুমুখী দক্ষতার প্রমাণ দেয়।২০২২ সালের অক্টোবর থেকে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের বর্তমান ভারতীয় হাই-কমিশনার প্রণয় ভার্মা এখনই ঢাকা ছাড়ছেন না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার থিতু হওয়া পর্যন্ত আরও কয়েক সপ্তাহ তিনি দায়িত্ব সামলাবেন। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল, তখন নেপথ্যে থেকে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে ভার্মাকেই।আগামী দিনে সন্দীপ চক্রবর্তীর সামনে প্রধান কাজ হবে, মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ‘অবিশ্বাস’ দূর করে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে বিএনপি-র সম্পর্ক কিছুটা শীতল হলেও, জয়ী হওয়ার পর তারেক রহমান এবং জামায়াত নেতৃত্ব ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগানোই হবে বড় লক্ষ্য। জামায়াত ও তার জোটসঙ্গীরা প্রায় ৭০টি আসন পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের শান্তি বজায় রাখা সন্দীপ চক্রবর্তীর জন্য আরও এক অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে।আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ‘এগ্রিমেন্ট’ বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলেই সন্দীপ চক্রবর্তী ঢাকায় তাঁর কার্যভার গ্রহণ করবেন। তাঁর এই নিয়োগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভারত এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘রক্ষণাত্মক’ নীতি ছেড়ে অত্যন্ত কৌশলী ও সক্রিয় ‘এনগেজমেন্ট’-এর পথে হাঁটতে চাইছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার