Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বঙ্গোপসাগরে ভারত-রুশ নৌসেনার হুঙ্কার: ফেব্রুয়ারিতেই হবে যৌথ যুদ্ধ-মহড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে ভারত-রুশ নৌসেনার হুঙ্কার: ফেব্রুয়ারিতেই হবে যৌথ যুদ্ধ-মহড়া

নয়াদিল্লি ও মস্কো: বিশ্বমঞ্চে টালমাটাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিল ভারত ও রাশিয়া। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নিতে চলেছে দুই দেশের নৌবাহিনী। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাস' (TASS) বুধবার এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।


রুশ মেরিটাইম কলেজের প্রেস সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (Pacific Fleet) একটি শক্তিশালী ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই ওমানের মাসকাট বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে। মহড়াটি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। মহড়া শেষে রুশ নৌবাহিনীর এই রণতরীটি ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম বন্দরে এক অনানুষ্ঠানিক সফরে থাকবে।


আরও জানা গিয়েছে, এই নৌ-মহড়া মূলত বহুজাতিক নৌ-মহড়া ‘মিলান ২০২৬’-এর একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে ভারত আয়োজক দেশ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়ার এই নৌ-মহড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। যেমন - 


প্রথমত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার চাপ সত্ত্বেও ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যে বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি, এই মহড়া তারই প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে রাশিয়া ও ভারতের এই পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তৃতীয়ত, দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে আসা 'ইন্দ্র' সিরিজের মতো এই মহড়াও দুই দেশের নৌসেনার মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং কারিগরি সমন্বয় বৃদ্ধি করবে।


উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় চিন-রাশিয়া-ইরানের যৌথ মহড়া চললেও ভারত সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। কিন্তু, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি এই দ্বিপাক্ষিক মহড়ায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy)-এর নীতিকেই প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ, ভারত যেমন মার্কিন নেতৃত্বাধীন 'কোয়াড'-এর সদস্য, ঠিক তেমনই রাশিয়ার মতো পুরনো বন্ধুর সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।


বিশাখাপত্তনমের বন্দরে রুশ পতাকাবাহী রণতরীর এই উপস্থিতি কেবল সামরিক মহড়া নয়। বরং, দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার এক শক্তিশালী পদক্ষেপ। ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরের এই মহড়ার দিকে এখন নজর থাকবে গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা মহলের।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বঙ্গোপসাগরে ভারত-রুশ নৌসেনার হুঙ্কার: ফেব্রুয়ারিতেই হবে যৌথ যুদ্ধ-মহড়া

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি ও মস্কো: বিশ্বমঞ্চে টালমাটাল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিল ভারত ও রাশিয়া। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরে যৌথ নৌ-মহড়ায় অংশ নিতে চলেছে দুই দেশের নৌবাহিনী। রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাস' (TASS) বুধবার এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।রুশ মেরিটাইম কলেজের প্রেস সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের (Pacific Fleet) একটি শক্তিশালী ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই ওমানের মাসকাট বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে। মহড়াটি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। মহড়া শেষে রুশ নৌবাহিনীর এই রণতরীটি ১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম বন্দরে এক অনানুষ্ঠানিক সফরে থাকবে।আরও জানা গিয়েছে, এই নৌ-মহড়া মূলত বহুজাতিক নৌ-মহড়া ‘মিলান ২০২৬’-এর একটি অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে ভারত আয়োজক দেশ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভারত ও রাশিয়ার এই নৌ-মহড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। যেমন - প্রথমত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমী দেশগুলির নিষেধাজ্ঞার চাপ সত্ত্বেও ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যে বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি, এই মহড়া তারই প্রমাণ। দ্বিতীয়ত, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে রাশিয়া ও ভারতের এই পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তৃতীয়ত, দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলে আসা 'ইন্দ্র' সিরিজের মতো এই মহড়াও দুই দেশের নৌসেনার মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং কারিগরি সমন্বয় বৃদ্ধি করবে।উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় চিন-রাশিয়া-ইরানের যৌথ মহড়া চললেও ভারত সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিল। কিন্তু, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি এই দ্বিপাক্ষিক মহড়ায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy)-এর নীতিকেই প্রতিফলিত করে। অর্থাৎ, ভারত যেমন মার্কিন নেতৃত্বাধীন 'কোয়াড'-এর সদস্য, ঠিক তেমনই রাশিয়ার মতো পুরনো বন্ধুর সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।বিশাখাপত্তনমের বন্দরে রুশ পতাকাবাহী রণতরীর এই উপস্থিতি কেবল সামরিক মহড়া নয়। বরং, দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রসীমায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার এক শক্তিশালী পদক্ষেপ। ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গোপসাগরের এই মহড়ার দিকে এখন নজর থাকবে গোটা বিশ্বের প্রতিরক্ষা মহলের।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার