ঢাকা : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা জানান, “সন্ধ্যায় সরকারপ্রধানের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ হবে।” তবে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের রোডম্যাপ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
এর আগে গত বছরের ১৩ জুন লন্ডনের ডরচেস্টার হোটেলে ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী একান্ত বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরই নির্বাচন নিয়ে বড় ঘোষণা আসে—প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
তবে সময়সীমা নিয়ে তখন থেকেই মতভেদ ছিল। বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই ভোট আয়োজনের দাবি তোলে। অন্যদিকে, গত ৬ জুন কোরবানি ঈদের আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রায় দেড় দশক যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পরপরই নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য তিনি ফোনে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান বলে জানা যায়।
এরপর ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়। তবে দেশে ফেরার পর এই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন দু’জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; বরং নির্বাচনকালীন সময়সূচি, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই বৈঠক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন