Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

উত্তরবঙ্গে মহাগুরু, সল্টলেকে দিলীপ—২০২৬-এর আগে বিজেপির হাইভোল্টেজ রাজনীতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির আক্রমণাত্মক উপস্থিতি। দলের তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সফর দিয়ে কার্যত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মঞ্চ—সব জায়গাতেই আত্মবিশ্বাসের সুরে একটাই বার্তা, লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এবার বাংলা।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুধু বার্তা দেননি, টার্গেটও বেঁধে দিয়েছেন। সংখ্যার অঙ্কে না ঢুকলেও তাঁর ঘোষণায় ছিল ক্ষমতা দখলের প্রত্যয়। “কত আসন পাব সেটা সময় বলবে। কিন্তু সরকার আমাদেরই হবে,”—এই বক্তব্য আসলে বিজেপির স্ট্র্যাটেজিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপি এবার আর প্রতিরোধে নয়, সরাসরি আক্রমণের মুডে।

উত্তরবঙ্গকে কেন এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি? কারণ, গত কয়েকটি নির্বাচনে এই অঞ্চলই ছিল দলের শক্ত ঘাঁটি। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি—এই জেলাগুলিতে বিজেপির সংগঠন এখনও তুলনামূলকভাবে মজবুত। আজ কোচবিহারে একাধিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই সাংগঠনিক ভিত আরও শক্ত করাই মিঠুন চক্রবর্তীর সফরের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা, নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং ভোটের প্রস্তুতি—সব কিছুরই রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকেই।

আগামীকাল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে মিঠুন চক্রবর্তীর বড় সভা বিজেপির কাছে শুধু একটি জনসভা নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। দলীয় সূত্রে খবর, এই সভা থেকেই উত্তরবঙ্গে ভোটযুদ্ধের কৌশল আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে। সফরের শেষ লগ্নে কার্শিয়াংয়ের দিকে যাত্রা বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণে আলাদা মাত্রা যোগ করছে। পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে, আর সেখানে মিঠুনের উপস্থিতিকে পাহাড়ের ভোটব্যাংক পুনর্দখলের চেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

দিল্লিতে বসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মিঠুন চক্রবর্তী কার্যত সংঘাতের বার্তাই দেন। “কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। গণতন্ত্রে সবাই নিজের কথা বলতে পারে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—সরকার গড়া,”—এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এখন প্রতিপক্ষের কথায় প্রতিক্রিয়া নয়, নিজেদের এজেন্ডাতেই ফোকাস রাখতে চাইছে।

উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও বিজেপির রাজনৈতিক চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। অমিত শাহের স্পষ্ট বার্তার পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষ। আজ সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে সিগন্যাল দিচ্ছে। লোকসভা ভোটের পর বেশ কিছুদিন নীরব থাকলেও, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন দলের কোর ভোটব্যাংকের কাছে বড় বার্তা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষ মানেই আক্রমণাত্মক রাজনীতি। তাঁর মাঠে নামা মানে বিজেপির লড়াইয়ের ভাষাও আরও ধারালো হওয়া। কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে হতাশা বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, দিলীপের সক্রিয়তায় সেটাই ভাঙতে চাইছে দল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের সমন্বয় ফের জোরদার করার চেষ্টাও স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ—বিজেপির একযোগে রাজনৈতিক তৎপরতা দেখাচ্ছে, ২০২৬-এর আগে আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয় তারা। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা আক্রমণে নেমেছে, ফলে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। আজকের এই ‘সুপার ফ্রাইডে’ শুধু ঘটনাপ্রবাহ নয়, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ট্রেলার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বাংলার রাজনীতির দিকনির্দেশ ঠিক কোন পথে যাবে—তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক মুহূর্তের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


উত্তরবঙ্গে মহাগুরু, সল্টলেকে দিলীপ—২০২৬-এর আগে বিজেপির হাইভোল্টেজ রাজনীতি!

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image
শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির আক্রমণাত্মক উপস্থিতি। দলের তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সফর দিয়ে কার্যত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু করে দিল গেরুয়া শিবির। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মঞ্চ—সব জায়গাতেই আত্মবিশ্বাসের সুরে একটাই বার্তা, লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এবার বাংলা।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুধু বার্তা দেননি, টার্গেটও বেঁধে দিয়েছেন। সংখ্যার অঙ্কে না ঢুকলেও তাঁর ঘোষণায় ছিল ক্ষমতা দখলের প্রত্যয়। “কত আসন পাব সেটা সময় বলবে। কিন্তু সরকার আমাদেরই হবে,”—এই বক্তব্য আসলে বিজেপির স্ট্র্যাটেজিক আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজেপি এবার আর প্রতিরোধে নয়, সরাসরি আক্রমণের মুডে।উত্তরবঙ্গকে কেন এতটা গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি? কারণ, গত কয়েকটি নির্বাচনে এই অঞ্চলই ছিল দলের শক্ত ঘাঁটি। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি—এই জেলাগুলিতে বিজেপির সংগঠন এখনও তুলনামূলকভাবে মজবুত। আজ কোচবিহারে একাধিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই সাংগঠনিক ভিত আরও শক্ত করাই মিঠুন চক্রবর্তীর সফরের অন্যতম লক্ষ্য। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা, নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় এবং ভোটের প্রস্তুতি—সব কিছুরই রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকেই।আগামীকাল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে মিঠুন চক্রবর্তীর বড় সভা বিজেপির কাছে শুধু একটি জনসভা নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ। দলীয় সূত্রে খবর, এই সভা থেকেই উত্তরবঙ্গে ভোটযুদ্ধের কৌশল আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে। সফরের শেষ লগ্নে কার্শিয়াংয়ের দিকে যাত্রা বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণে আলাদা মাত্রা যোগ করছে। পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা রাজনৈতিক টানাপোড়েন রয়েছে, আর সেখানে মিঠুনের উপস্থিতিকে পাহাড়ের ভোটব্যাংক পুনর্দখলের চেষ্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।দিল্লিতে বসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মিঠুন চক্রবর্তী কার্যত সংঘাতের বার্তাই দেন। “কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। গণতন্ত্রে সবাই নিজের কথা বলতে পারে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—সরকার গড়া,”—এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এখন প্রতিপক্ষের কথায় প্রতিক্রিয়া নয়, নিজেদের এজেন্ডাতেই ফোকাস রাখতে চাইছে।উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও বিজেপির রাজনৈতিক চাকা ঘুরতে শুরু করেছে। অমিত শাহের স্পষ্ট বার্তার পর রাজ্য রাজনীতিতে ফের সক্রিয় দিলীপ ঘোষ। আজ সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে সিগন্যাল দিচ্ছে। লোকসভা ভোটের পর বেশ কিছুদিন নীরব থাকলেও, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তন দলের কোর ভোটব্যাংকের কাছে বড় বার্তা।রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষ মানেই আক্রমণাত্মক রাজনীতি। তাঁর মাঠে নামা মানে বিজেপির লড়াইয়ের ভাষাও আরও ধারালো হওয়া। কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে হতাশা বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, দিলীপের সক্রিয়তায় সেটাই ভাঙতে চাইছে দল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের সমন্বয় ফের জোরদার করার চেষ্টাও স্পষ্ট।সব মিলিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ—বিজেপির একযোগে রাজনৈতিক তৎপরতা দেখাচ্ছে, ২০২৬-এর আগে আর সময় নষ্ট করতে রাজি নয় তারা। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসও পাল্টা আক্রমণে নেমেছে, ফলে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। আজকের এই ‘সুপার ফ্রাইডে’ শুধু ঘটনাপ্রবাহ নয়, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ট্রেলার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বাংলার রাজনীতির দিকনির্দেশ ঠিক কোন পথে যাবে—তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই হাইভোল্টেজ রাজনৈতিক মুহূর্তের ওপর।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার