নয়াদিল্লি: আসন্ন বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর সপ্তমে চড়ালো তৃণমূল কংগ্রেস। প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন এবং বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিতর্কিত সংশোধনী বিলকে সম্পূর্ণ 'স্বৈরাচারী' ও 'গণতন্ত্র বিরোধী' আখ্যা দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে একটি অত্যন্ত কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। এই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন, এই ধরণের চরম সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত বিলগুলি আইন সভায় পেশ করার আগে অবিলম্বে যেন একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও মোদী সরকারকে চেপে ধরতে তৃণমূল যে রণকৌশল সাজাচ্ছে, ডেরেকের এই বিস্ফোরক চিঠি তারই আগাম ইঙ্গিত বলে মনে করছে জাতীয় রাজনৈতিক মহল।
রবিবার পাঠানো এই চিঠিতে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ কেন্দ্রের সংসদীয় নীতি ও কার্যপ্রণালী লঙ্ঘনের পুরোনো রেকর্ড নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ডেরেক অভিযোগ তুলেছেন যে, আসন্ন বাদল অধিবেশনের জন্য প্রকাশিত সরকারি কার্যতালিকার সংসদীয় বুলেটিনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলের কোনও সরাসরি উল্লেখ নেই ঠিকই, কিন্তু সরকার যে পিছনের দরজা দিয়ে বা অতর্কিতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় এটি পেশ করে দেবে না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি ২০১৯ সালের জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের নজির টেনে আনেন, যা সাংসদদের হাতে পৌঁছানোর মাত্র ১১ মিনিট আগে আচমকা রাজ্যসভায় পেশ করে দেওয়া হয়েছিল। মোদীকে সতর্ক করে ডেরেক লিখেছেন, বিতর্কিত কৃষি বিলের মতো একতরফা 'কাউবয়' আইন প্রণয়নের পথে হেঁটে পরবর্তীতে পিছু হটার চেয়ে, সরকারের উচিত আগেভাগেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা।
চিঠির প্রথমাংশে ডিলিমিটেশন বিলের তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা বলেন, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের উচিত 'ছায়াযুদ্ধের' বা লুকোছাপার কৌশল থেকে বিরত থাকা। প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল লোকসভায় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত বিলের সঙ্গে এই সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলটি আনা হলেও, ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় তা ভোটাভুটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। সেই ধাক্কার কথা মনে করিয়ে দিয়েই এবার বাদল অধিবেশনের আগে সরকারকে অল-পার্টি মিটিং ডাকার চাপ দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
রাজারহাট নারায়ণপুর বিস্ফোরণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিধায়ক পীযূষ কান্তি পান্ডে
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সংশোধনীর (FCRA Amendment Bill 2026) ঘোর বিরোধিতা করে তৃণমূল সাংসদ চিঠিতে লিখেছেন, এই বিল যদি সংসদে পাস হয়ে যায় তবে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি গভীর সংকটের মুখে পড়বে। বিশেষ করে বহু দশক ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের সেবা করে আসা দাতব্য সংস্থাগুলি ধ্বংস হয়ে যাবে।
ডেরেক উল্লেখ করেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রায় ছয় কোটি শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। এই বিলের মাধ্যমে সেবামূলক সংস্থাগুলির ওপর সরকারের অতিরিক্ত ও স্বৈরাচারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা ভারতীয় সংবিধানের ১৯ এবং ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। কোনওরকম তাড়াহুড়ো না করে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় মোদীকে অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন