Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

এবার ‘দিদি’র হাত ছাড়ছেন মদন? মাঝরাতে সন্দীপনের বাড়িতে গোপন বৈঠকের পর জল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬
এবার ‘দিদি’র হাত ছাড়ছেন মদন? মাঝরাতে সন্দীপনের বাড়িতে গোপন বৈঠকের পর জল্পনা
এবার ‘দিদি’র হাত ছাড়বেন মদন? ফাইল ছবি

কলকাতা : বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে রাজ্য রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের সমীকরণ যেন সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও দ্রুত বদলাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একের পর এক হেভিওয়েট নেতা যখন দল ত্যাগ করেছেন, তখনও কুণাল ঘোষ কিংবা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কয়েকজনের সঙ্গে নেত্রীর পাশেই অটল দাঁড়িয়ে ছিলেন কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্র। কিন্তু এবার রাজনৈতিক মহলে জোর কানাঘুষো ও জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, রঙিন এই রাজনীতিবিদও নাকি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ত্যাগ করে যোগ দিতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এ। এই জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে মঙ্গলবার রাতে সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে মদন মিত্রের আকস্মিক ও গোপন উপস্থিতি এবং সেখানে দীর্ঘক্ষণ হওয়া এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর।

রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। আর এই ভাঙনের নেপথ্যে যে দু’জন মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁরা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিকভাবে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে সন্দীপন সাহার স্ত্রী ও পুত্রদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তলব করে। আর ঠিক সেই রাতেই হঠাৎ করে সন্দীপনের বাড়িতে পৌঁছে যান মদন মিত্র। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সন্দীপনের বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন হেভিওয়েট বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। উল্লেখ্য, পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবসার সূত্রে এবং দীর্ঘদিনের একই দল করার কারণে মদন মিত্রের সঙ্গে স্বর্ণকমল বাবুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তবে বর্তমানের এই টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঝরাতের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎ যে স্রেফ সৌজন্যমূলক নয়, বরং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

যদিও মঙ্গলবার রাতের সেই সফরে সন্দীপন সাহার সঙ্গে সরাসরি সামনাসামনি দেখা হয়নি মদন মিত্রের। এই বিষয়ে সন্দীপন সাহা সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট জানান যে, মদন মিত্র বাংলার রাজনীতির এক মস্ত বড় মাপের নেতা এবং দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া সংগঠক। তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি নিজেই দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সন্দীপন আরও যোগ করেন, দেখা হলে মদনবাবু ঠিক কী চাইছেন তা বোঝা যাবে এবং উনি তাঁদের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে আসছেন কি না, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হবে। সূত্রের খবর, আজ বুধবারই দু’জনের মধ্যে চূড়ান্ত এক প্রস্থ ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে, যার পরেই মদন মিত্রের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। অন্যদিকে, আজই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আসল তৃণমূল’-এ যোগ দিতে চলেছেন বীরভূমের কেষ্ট তথা অনুব্রত মণ্ডল। বিধানসভায় গিয়ে আজই তাঁর ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। তার ঠিক পরেই বিকেলে একুশে জুলাইয়ের মেগা প্রস্তুতি নিয়ে তপসিয়ায় জাভেদ খানের কার্যালয়ে ঋত-পন্থীদের একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে অনুব্রতও উপস্থিত থাকতে পারেন। সব মিলিয়ে মদন মিত্রের এই নতুন সমীকরণ এখন বাংলার রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BengalPolitics TrinamoolCongress BreakingNewsBengal HiddenStoriesNews MadanMitra sandipansaha

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


এবার ‘দিদি’র হাত ছাড়ছেন মদন? মাঝরাতে সন্দীপনের বাড়িতে গোপন বৈঠকের পর জল্পনা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা : বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে রাজ্য রাজনীতির প্রতি মুহূর্তের সমীকরণ যেন সিনেমার চিত্রনাট্যের চেয়েও দ্রুত বদলাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একের পর এক হেভিওয়েট নেতা যখন দল ত্যাগ করেছেন, তখনও কুণাল ঘোষ কিংবা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কয়েকজনের সঙ্গে নেত্রীর পাশেই অটল দাঁড়িয়ে ছিলেন কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্র। কিন্তু এবার রাজনৈতিক মহলে জোর কানাঘুষো ও জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, রঙিন এই রাজনীতিবিদও নাকি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ত্যাগ করে যোগ দিতে চলেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’-এ। এই জল্পনার আগুনে ঘি পড়েছে মঙ্গলবার রাতে সন্দীপন সাহার তালতলার বাড়িতে মদন মিত্রের আকস্মিক ও গোপন উপস্থিতি এবং সেখানে দীর্ঘক্ষণ হওয়া এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর।রাজ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। আর এই ভাঙনের নেপথ্যে যে দু’জন মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন, তাঁরা হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। রাজনৈতিকভাবে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল আবহের মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে সন্দীপন সাহার স্ত্রী ও পুত্রদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তলব করে। আর ঠিক সেই রাতেই হঠাৎ করে সন্দীপনের বাড়িতে পৌঁছে যান মদন মিত্র। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সন্দীপনের বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন হেভিওয়েট বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। উল্লেখ্য, পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবসার সূত্রে এবং দীর্ঘদিনের একই দল করার কারণে মদন মিত্রের সঙ্গে স্বর্ণকমল বাবুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তবে বর্তমানের এই টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঝরাতের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎ যে স্রেফ সৌজন্যমূলক নয়, বরং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।যদিও মঙ্গলবার রাতের সেই সফরে সন্দীপন সাহার সঙ্গে সরাসরি সামনাসামনি দেখা হয়নি মদন মিত্রের। এই বিষয়ে সন্দীপন সাহা সংবাদমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট জানান যে, মদন মিত্র বাংলার রাজনীতির এক মস্ত বড় মাপের নেতা এবং দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া সংগঠক। তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি নিজেই দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সন্দীপন আরও যোগ করেন, দেখা হলে মদনবাবু ঠিক কী চাইছেন তা বোঝা যাবে এবং উনি তাঁদের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে আসছেন কি না, সেই বিষয়টিও স্পষ্ট হবে। সূত্রের খবর, আজ বুধবারই দু’জনের মধ্যে চূড়ান্ত এক প্রস্থ ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে, যার পরেই মদন মিত্রের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। অন্যদিকে, আজই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আসল তৃণমূল’-এ যোগ দিতে চলেছেন বীরভূমের কেষ্ট তথা অনুব্রত মণ্ডল। বিধানসভায় গিয়ে আজই তাঁর ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। তার ঠিক পরেই বিকেলে একুশে জুলাইয়ের মেগা প্রস্তুতি নিয়ে তপসিয়ায় জাভেদ খানের কার্যালয়ে ঋত-পন্থীদের একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে অনুব্রতও উপস্থিত থাকতে পারেন। সব মিলিয়ে মদন মিত্রের এই নতুন সমীকরণ এখন বাংলার রাজনীতির অলিন্দে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার