কলকাতা: সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার আড়ালে চলা ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এবার ভয়াবহ মোড় নিল। মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের পা বাদ যাওয়ার ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার দাপুটে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএ) সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনগর থানায় এফআইআর দায়ের হলো। এই ঘটনার জেরে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনও। সোমবার সকাল ১১টায় ভুক্তভোগী ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারকে সমস্ত নথিপত্রসহ স্বাস্থ্যভবনে তলব করা হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার আক্রার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাসের অভিযোগ, হাঁটু ব্যথার চিকিৎসার জন্য তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পর তাঁর ব্যথার উপশম তো দূর, উল্টে তা অসহ্য পর্যায়ে পৌঁছায়। পুনরায় ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে তাঁকে তড়িঘড়ি রেফার করা হয় এমআর বাঙুর হাসপাতালে। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসার নামে একের পর এক হাসপাতাল বদল করা হলেও মালতী দেবীর পায়ের অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল মেডিক্যালে অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা জানান, ভুল চিকিৎসায় পা পচন ধরেছে, যা বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এই করুণ পরিস্থিতির পরেও অভিযুক্তদের তরফে কোনো সাড়া না মেলায় অবশেষে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের সহায়তায় পুলিশ ও স্বাস্থ্যভবনের দ্বারস্থ হয় পরিবার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সেবাশ্রয় ক্যাম্পে হাতুড়ে বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা চালানো হতো, এমনকি রোগীদের মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হতো। এই ক্যাম্প পরিচালনার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়। রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এখন একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন তৃণমূলের যুবরাজ। মালতী দেবীর পা বাদ যাওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্যভবনের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই মামলা এখন বড়সড় আইনি লড়াইয়ের পথে। চিকিৎসা পরিষেবার নামে এমন গাফিলতি এবং তার জেরে এক মহিলার চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এখন স্বাস্থ্যভবনের তদন্তে কী উঠে আসে এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন