কলকাতা: বদলের বাংলায় এবার খোদ কলকাতা পুলিশে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রদবদল ঘটে গেল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর কলকাতা পুলিশে এক অনন্য নজির গড়ে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ থানার ওসির (Officer-in-Charge) দায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো মহিলা ইন্সপেক্টরদের হাতে। বৃহস্পতিবার লালবাজারের পক্ষ থেকে ওসি এবং অ্যাডিশনাল ওসি মিলিয়ে মোট ৩৩ জন ইন্সপেক্টরের বিরাট রদবদল করা হয়েছে, যার মধ্যে শহরের প্রায় ২০টি থানার ওসির নাম রয়েছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার দাবি করেছিলেন যে এ রাজ্যে আর ‘শাসকের আইন’ নয়, বরং ‘আইনের শাসন’ চলবে। সরকার গঠনের মাত্র দু’মাসের মাথায় পুলিশ প্রশাসনের এই ঝোড়ো রদবদল সেই আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠারই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এবারের বদলির তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক অবশ্যই দুই মহিলা পুলিশ অফিসারের এই গুরুদায়িত্ব লাভ। উত্তর কলকাতার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিঁথি থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন চামেলি মুখোপাধ্যায়। এর আগে তিনি উল্টোডাঙ্গা মহিলা থানার দায়িত্বে ছিলেন এবং নির্বাচনের ঠিক আগে কিছুদিনের জন্য কালীঘাট থানার ওসির পদও সামলেছেন। অন্যদিকে, টালিগঞ্জ মহিলা থানার দক্ষ অফিসার রূপা সিংকে করা হয়েছে সরশুনা থানার নতুন ওসি। দীর্ঘদিন পর কলকাতার পুরুষশাসিত থানার শীর্ষ পদে এই দুই মহিলা ইন্সপেক্টরের আগমন লালবাজারের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।
বাংলাদেশে পাচারের আগেই বড় সাফল্য! সামসেরগঞ্জে ২ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, গ্রেপ্তার যুবক
মহিলা অফিসারদের পাশাপাশি কলকাতার একাধিক নামী থানার শীর্ষ পদেও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ভিভিআইপি এলাকা ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, ভবানীপুর থানার প্রাক্তন ইন্সপেক্টর সৌমিত্র বসুকে পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সে (STF)। চেতলা থানার নতুন ওসির দায়িত্ব পেয়েছেন মৌসম চট্টোপাধ্যায় এবং শহরের কেন্দ্রস্থল পার্ক স্ট্রিট থানার নতুন হাল ধরছেন অমিত চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া সদ্য কলকাতা পুলিশের অন্তর্ভুক্ত হওয়া ভাঙড় থানার নতুন ওসি পদে বসানো হয়েছে গৌতম রুজকে।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা পুলিশে এটি দ্বিতীয় বড় রদবদল। চলতি মাসের শুরুতেই কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের ডেপুটি কমিশনার জাফর আজমল কিদওয়াইকে কলকাতা পুলিশের জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার পদে উন্নীত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে এসটিএফের ডেপুটি কমিশনার প্রদীপ কুমার যাদবকে চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমিশনার করা হয়। শুধু লালবাজারই নয়, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই নবান্নের নির্দেশিকায় এক ধাক্কায় রাজ্যের ১০৮ জন আইসিকে (Inspector-in-Charge) বদলি করা হয়েছিল। মাত্র ৬০ দিনের মাথায় খোলনলচে বদলে যাওয়া এই প্রশাসনিক তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত এবং কড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন