Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সরকারি বাবুর ঘরে ১০০ কোটির কুবেরের ধন! দেড় কেজি সোনা, বিলাসবহুল বাংলো আর থরে থরে ক্যাশ দেখে চোখ কপালে তদন্তকারীদের

সরকারি বাবুর ঘরে ১০০ কোটির কুবেরের ধন! দেড় কেজি সোনা, বিলাসবহুল বাংলো আর থরে থরে ক্যাশ দেখে চোখ কপালে তদন্তকারীদের
ছবি সংগৃহীত

হায়দরাবাদ: তিনি খাতায়-কলমে ভূমি দপ্তরের এক সাধারণ সরকারি আধিকারিক। কিন্তু তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান শুনলে যে কোনও বড় শিল্পপতিরও মাথা ঘুরে যেতে বাধ্য। ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয়বহির্ভূত সম্পত্তির পাহাড় বানিয়ে অবশেষে দুর্নীতিদমন শাখার (ACB) জালে ধরা পড়লেন ভূমি দপ্তরের সেই যুগ্ম অধিকর্তা। তাঁর আলিশান বাংলো থেকে শুরু করে একের পর এক ফ্ল্যাট, সোনা-রুপোর গয়না এবং কোটি কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হতেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এসিবি।


দুর্নীতির খোঁজে মঙ্গলবার কাকভোরে তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের বাসিন্দা তথা ভূমি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা সুঙ্কারি নরহরি রাওয়ের ন’টি আলাদা আলাদা ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামেন এসিবির গোয়েন্দারা। শুধু রাওয়ের নিজের বাড়িই নয়, তাঁর একাধিক আত্মীয়র বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়। আর সেই তল্লাশিতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে সরকারি আধিকারিকের লুকিয়ে রাখা বিপুল সম্পত্তির পাহাড়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এখনও পর্যন্ত স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে যে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস মিলেছে, তা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। তল্লাশি প্রক্রিয়া যত এগোবে, এই দুর্নীতির অঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।


তদন্তে জানা গিয়েছে, ভূমি দপ্তরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাও নিজের এবং বেনামে বিপুল স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন। যার মধ্যে রঙ্গারেড্ডি জেলাতেই রয়েছে পাঁচটি দামি জমি এবং মহেশ্বরমে ১.২৪ একরের বিশাল কৃষিজমি। এখানেই শেষ নয়, পুপ্পালাগুড়া, নরসিংহীন এবং রাজেন্দ্রনগরের মতো অভিজাত এলাকায় ২৫০০ ও ১৮৬০ বর্গফুটের একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। পাশাপাশি গাছিবোওলিতে একটি চার তলা আলিশান বাংলো এবং ছত্রীনাকায় আরও একটি তিন তলা বাড়ির হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই সবের সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়িও।

শুভেন্দুর ‘জেল’ হুঙ্কারেই কি কাঁপল পাহাড়? ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনীত থাপার ধামাকা ইস্তফা!


স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি নগদ টাকা এবং সোনা-রুপো উদ্ধারের বহর দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও। রাওয়ের ডেরা থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের লকারে মিলেছে আরও আড়াই কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্কে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত রয়েছে তাঁর। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দেড় কেজি ওজনের সোনার গয়না এবং ৮ কেজি রুপোর গয়না। তবে এখানেই শেষ নয়, সুঙ্কারি নরহরি রাওয়ের স্ত্রীর নামে ব্যাঙ্কে আরও দু’টি লকার রয়েছে, যা এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। সেই লকার দু’টি খুললে আরও কত কোটি টাকার সম্পত্তি বা সোনা দানা বেরিয়ে আসবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুর্নীতিদমন শাখা। আপাতত অভিযুক্ত আধিকারিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

বিষয় : hyderabadcorruption acbraid wealthscam governmentofficer

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


সরকারি বাবুর ঘরে ১০০ কোটির কুবেরের ধন! দেড় কেজি সোনা, বিলাসবহুল বাংলো আর থরে থরে ক্যাশ দেখে চোখ কপালে তদন্তকারীদের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image
হায়দরাবাদ: তিনি খাতায়-কলমে ভূমি দপ্তরের এক সাধারণ সরকারি আধিকারিক। কিন্তু তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান শুনলে যে কোনও বড় শিল্পপতিরও মাথা ঘুরে যেতে বাধ্য। ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয়বহির্ভূত সম্পত্তির পাহাড় বানিয়ে অবশেষে দুর্নীতিদমন শাখার (ACB) জালে ধরা পড়লেন ভূমি দপ্তরের সেই যুগ্ম অধিকর্তা। তাঁর আলিশান বাংলো থেকে শুরু করে একের পর এক ফ্ল্যাট, সোনা-রুপোর গয়না এবং কোটি কোটি টাকার নগদ উদ্ধার হতেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তি রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এসিবি।দুর্নীতির খোঁজে মঙ্গলবার কাকভোরে তেলঙ্গানার হায়দরাবাদের বাসিন্দা তথা ভূমি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা সুঙ্কারি নরহরি রাওয়ের ন’টি আলাদা আলাদা ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযানে নামেন এসিবির গোয়েন্দারা। শুধু রাওয়ের নিজের বাড়িই নয়, তাঁর একাধিক আত্মীয়র বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়। আর সেই তল্লাশিতেই একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে সরকারি আধিকারিকের লুকিয়ে রাখা বিপুল সম্পত্তির পাহাড়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এখনও পর্যন্ত স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে যে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিস মিলেছে, তা আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। তল্লাশি প্রক্রিয়া যত এগোবে, এই দুর্নীতির অঙ্ক আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।তদন্তে জানা গিয়েছে, ভূমি দপ্তরের ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাও নিজের এবং বেনামে বিপুল স্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন। যার মধ্যে রঙ্গারেড্ডি জেলাতেই রয়েছে পাঁচটি দামি জমি এবং মহেশ্বরমে ১.২৪ একরের বিশাল কৃষিজমি। এখানেই শেষ নয়, পুপ্পালাগুড়া, নরসিংহীন এবং রাজেন্দ্রনগরের মতো অভিজাত এলাকায় ২৫০০ ও ১৮৬০ বর্গফুটের একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। পাশাপাশি গাছিবোওলিতে একটি চার তলা আলিশান বাংলো এবং ছত্রীনাকায় আরও একটি তিন তলা বাড়ির হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই সবের সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল গাড়িও।শুভেন্দুর ‘জেল’ হুঙ্কারেই কি কাঁপল পাহাড়? ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অনীত থাপার ধামাকা ইস্তফা! স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি নগদ টাকা এবং সোনা-রুপো উদ্ধারের বহর দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন দুঁদে গোয়েন্দারাও। রাওয়ের ডেরা থেকে নগদ দেড় কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পাশাপাশি ব্যাঙ্কের লকারে মিলেছে আরও আড়াই কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাঙ্কে প্রায় ৫ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট বা স্থায়ী আমানত রয়েছে তাঁর। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দেড় কেজি ওজনের সোনার গয়না এবং ৮ কেজি রুপোর গয়না। তবে এখানেই শেষ নয়, সুঙ্কারি নরহরি রাওয়ের স্ত্রীর নামে ব্যাঙ্কে আরও দু’টি লকার রয়েছে, যা এখনও খোলা সম্ভব হয়নি। সেই লকার দু’টি খুললে আরও কত কোটি টাকার সম্পত্তি বা সোনা দানা বেরিয়ে আসবে, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দুর্নীতিদমন শাখা। আপাতত অভিযুক্ত আধিকারিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার