Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ভোট মিটতেই অর্জুনের ‘ম্যাজিক’! ৫ মাসের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে খুলল এই বিখ্যাত জুটমিল, খুশিতে আত্মহারা হাজার হাজার শ্রমিক!

ভোট মিটতেই অর্জুনের ‘ম্যাজিক’! ৫ মাসের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে খুলল এই বিখ্যাত জুটমিল, খুশিতে আত্মহারা হাজার হাজার শ্রমিক!
প্রতীকী ছবি

জগদ্দল: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে এক্কেবারে দস্তুর মতো ম্যাজিক দেখালেন নতুন শ্রমমন্ত্রী! দীর্ঘ পাঁচ মাসের চরম অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বুধবার খুলে গেল জগদ্দলের ঐতিহ্যবাহী অ্যালায়েন্স জুটমিল। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখিয়ে বন্ধ মিলের চাকা ঘোরালেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।


 মঙ্গলবার কলকাতায় তাঁর উপস্থিতিতে হওয়া একটি মেগা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেই কাটে মিলের দীর্ঘদিনের জট। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে কারখানায় কাজে ফিরতে শুরু করেছেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। রুটি-রুজি ফিরে পেয়ে দীর্ঘ দিন পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কুলি লাইনের হাজার হাজার বাসিন্দা।


কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে নবনিযুক্ত শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের পৌরহিত্যে মালিকপক্ষ ও একাধিক শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ শ্রম কমিশনার আশিস সরকার সহ শ্রম দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সেখানেই মিল খোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই চুক্তি মেনেই বুধবার সকাল থেকে খুলে দেওয়া হয় অ্যালায়েন্স জুটমিলের মূল ফটক। প্রথম দিনই বহু শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই মিলের ভেতরে পুরোদমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। বুধবার সকাল থেকেই মিল চত্বরে ছিল কার্যত উৎসবের আবহ, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন শ্রমিকরা।


গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর আচমকাই 'সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক'-এর নোটিস ঝুলিয়ে মিল বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কোনও আগাম আভাস ছাড়া কাজ হারিয়ে রাতারাতি অথৈ জলে পড়ে যান প্রায় দুই হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। সংসার চালাতে না পেরে অনেককে ঘটিবাটি বেচতে হয়েছে, চড়া সুদে ধারদেনা করতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেকেই পেটের টানে ভিনরাজ্যের গ্রামে ফিরে যান, কেউ বা বেছে নেন অন্য পেশা।


 লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এই জুটমিল চালুর দাবিতে অর্জুন সিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হন্যে হয়ে ঘোরা শ্রমিক ও ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। সেই সময় অর্জুনবাবু আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভোট মিটলেই তিনি এই জট কাটাবেন। শ্রমমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই তিনি কথা রাখলেন। জুট টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক পিন্টু কুমার সাউ আবেগঘন গলায় জানান, পাঁচ মাস কর্মহীন অবস্থায় শ্রমিক পরিবারগুলি চরম সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছিল। নতুন শ্রমমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপে কাজ ফিরে পেয়ে আজ সবাই নতুন করে বাঁচার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

বিষয় : WestBengalPolitics arjunsingh JAGADDALNEWS ALLIANCEJUTEMILL EMPLYOMENTNEWS LABOURMINISTRY'

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


ভোট মিটতেই অর্জুনের ‘ম্যাজিক’! ৫ মাসের অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে খুলল এই বিখ্যাত জুটমিল, খুশিতে আত্মহারা হাজার হাজার শ্রমিক!

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

featured Image
জগদ্দল: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে এক্কেবারে দস্তুর মতো ম্যাজিক দেখালেন নতুন শ্রমমন্ত্রী! দীর্ঘ পাঁচ মাসের চরম অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বুধবার খুলে গেল জগদ্দলের ঐতিহ্যবাহী অ্যালায়েন্স জুটমিল। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখিয়ে বন্ধ মিলের চাকা ঘোরালেন শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার কলকাতায় তাঁর উপস্থিতিতে হওয়া একটি মেগা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকেই কাটে মিলের দীর্ঘদিনের জট। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে কারখানায় কাজে ফিরতে শুরু করেছেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। রুটি-রুজি ফিরে পেয়ে দীর্ঘ দিন পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কুলি লাইনের হাজার হাজার বাসিন্দা।কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার কলকাতার নিউ সেক্রেটারিয়েট ভবনে নবনিযুক্ত শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের পৌরহিত্যে মালিকপক্ষ ও একাধিক শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ শ্রম কমিশনার আশিস সরকার সহ শ্রম দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সেখানেই মিল খোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই চুক্তি মেনেই বুধবার সকাল থেকে খুলে দেওয়া হয় অ্যালায়েন্স জুটমিলের মূল ফটক। প্রথম দিনই বহু শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই মিলের ভেতরে পুরোদমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। বুধবার সকাল থেকেই মিল চত্বরে ছিল কার্যত উৎসবের আবহ, একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে আনন্দ ভাগ করে নেন শ্রমিকরা।গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর আচমকাই 'সাসপেনশন অফ ওয়ার্ক'-এর নোটিস ঝুলিয়ে মিল বন্ধ করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কোনও আগাম আভাস ছাড়া কাজ হারিয়ে রাতারাতি অথৈ জলে পড়ে যান প্রায় দুই হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। সংসার চালাতে না পেরে অনেককে ঘটিবাটি বেচতে হয়েছে, চড়া সুদে ধারদেনা করতে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অনেকেই পেটের টানে ভিনরাজ্যের গ্রামে ফিরে যান, কেউ বা বেছে নেন অন্য পেশা। লোকসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন এই জুটমিল চালুর দাবিতে অর্জুন সিংয়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হন্যে হয়ে ঘোরা শ্রমিক ও ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। সেই সময় অর্জুনবাবু আশ্বাস দিয়েছিলেন, ভোট মিটলেই তিনি এই জট কাটাবেন। শ্রমমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই তিনি কথা রাখলেন। জুট টেক্সটাইল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক পিন্টু কুমার সাউ আবেগঘন গলায় জানান, পাঁচ মাস কর্মহীন অবস্থায় শ্রমিক পরিবারগুলি চরম সঙ্কটে দিন কাটাচ্ছিল। নতুন শ্রমমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপে কাজ ফিরে পেয়ে আজ সবাই নতুন করে বাঁচার আলো দেখতে পাচ্ছেন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার