কলকাতা: এ যেন এক্কেবারে খোলনলচে বদলে ফেলার মেগা পরিকল্পনা! পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বারবার যে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে শাসক শিবিরের দলদাসের মতো কাজ করার অভিযোগ উঠত, সেই চেনা ছবিটাই এবার বদলে দিতে কোমর বেঁধে নামল নতুন সরকার। আধিকারিকদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ার যে আক্ষেপ দীর্ঘদিনের ছিল, তা মেটাতে এবার পুলিশকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের করে তোলাই প্রধান লক্ষ্য শুভেন্দু সরকারের। আর সেই লক্ষ্যপূরণেই বুধবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পৌরহিত্যে নবান্নে রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে রাজ্য পুলিশের এক ঐতিহাসিক মউ বা সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হল। যা আগামিদিনে পুলিশ প্রশাসনের খোলনলচে বদলে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে গত ২০২৫ সালের নভেম্বরেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটি রাজ্য পুলিশের সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সময়কার সরকার এই যুগান্তকারী প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও বিশেষ হেলদোল দেখায়নি বলেই অভিযোগ। তবে রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পুলিশের সামগ্রিক দক্ষতাকে আরও শান দিতে এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে তাঁদের দীক্ষিত করতে এই মউ স্বাক্ষর করা হল। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, অসম, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলি অনেক আগেই এই রাষ্ট্রীয় রক্ষা ইউনিভার্সিটির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে নিজেদের পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক করে তুলেছে, এবার সেই তালিকায় জুড়ল পশ্চিমবঙ্গের নামও। এর ফলে এ রাজ্যের পুলিশ কর্মীদের দক্ষতার প্রকৃত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
ফুলবাগানের ডেরা থেকে আচমকা গ্রেপ্তার উদয়ন গুহ, কী এমন করলেন প্রাক্তন মন্ত্রী?
মউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, বাংলার পুলিশের দক্ষতা একসময় এক অন্য উচ্চতায় ছিল, এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরের পুলিশের সঙ্গেও তাঁদের তুলনা করা হত। কিন্তু আগের সরকার পুলিশের সেই উচ্চতা ও কর্মদক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগায়নি। পুলিশের আধুনিকীকরণের জন্য যে সমস্ত অত্যাধুনিক জিনিসপত্র বা পরিকাঠামো দরকার, সেগুলির কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। ফলে অন্যান্য এজেন্সির ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে এবার পুলিশকে নিজেদের ক্ষমতায় স্বনির্ভর হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশে কর্মী সংখ্যা কম থাকার ফলে সাধারণ মানুষ যে নিরাপত্তা বা পরিষেবা আশা করেন, তার থেকে পুলিশ অনেক দূরে চলে গিয়েছিল। সেই খামতি মেটাতে এবার দ্রুত পুলিশ বাহিনীতে আরও বেশি কর্মী নিয়োগ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এবং সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই বিশেষ মউ-এর অধীনে আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেবেন রাজ্যের আইপিএস, ডব্লুবিপিএস, ইন্সপেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসাররা। শুধু তাই নয়, অপরাধ দমন সংক্রান্ত পড়ুয়ারাও এই বিশেষ কোর্সে অংশ নিতে পারবেন। এই হাইটেক প্রশিক্ষণে সাইবার ক্রাইম রুখে দেওয়া, ডার্ক ওয়েব ট্র্যাকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ব্যবহার, ফরেন্সিক সায়েন্স, বর্ডার ইন্টেলিজেন্স এবং নারী পাচার রোধ করার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আধুনিক বিষয়ে পুলিশকে পারদর্শী করে তোলা হবে। সব মিলিয়ে, এই ঐতিহাসিক চুক্তির হাত ধরে আগামিদিনে যে রাজ্য পুলিশের হারানো গৌরব ও হৃতগৌরব ফিরতে চলেছে, তা নিয়ে এখন আর কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন