Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

১২৫ দিনের কাজে ফাঁকিবাজি বরদাস্ত নয়! দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করতে আসছে ‘লোকেশন লক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬
১২৫ দিনের কাজে ফাঁকিবাজি বরদাস্ত নয়! দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করতে আসছে ‘লোকেশন লক’
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অতীতে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম ছিল রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে ক্ষমতার পালাবদলের জল্পনা ও নতুন ব্যবস্থার মাঝে এবার সাধারণ মানুষের জন্য আসছে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ। আর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতেই যাতে আগের মতো কোনো ভুয়ো বিল বা দুর্নীতির কালো ছায়া না পড়ে, তার জন্য নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ করল প্রশাসন। আর এই আধুনিক ব্যবস্থার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিও ফেন্সিং’ বা সহজ কথায় কাজের নির্দিষ্ট এলাকাকে ডিজিটাল বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা।


নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো কাজের প্রক্রিয়াটি কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শুরু করার ঠিক আগে নির্দিষ্ট সুপারভাইজারকে তাঁর স্মার্টফোনে সংশ্লিষ্ট কাজের জায়গার একটি ডিজিটাল ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করতে হবে। এরপর কাজের নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকরা যদি ওই নির্দিষ্ট ম্যাপের মাত্র ১০ মিটারের পরিধির মধ্যে উপস্থিত থাকেন, তবেই তাঁদের হাজিরা বৈধ বলে গণ্য হবে এবং মিলবে পারিশ্রমিক। কোনো শ্রমিক যদি কাজের এলাকা বা ওই নির্দিষ্ট ডিজিটাল সীমানা টপকে বাইরে চলে যান, তবে সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমে লাল দাগ বা সতর্কতা ভেসে উঠবে। ফলস্বরূপ, সেই শ্রমিককে অনুপস্থিত হিসেবে ধরা হবে এবং তাঁর পারিশ্রমিকের টাকা সম্পূর্ণ আটকে যাবে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের জোরালো দাবি, এই কঠোর ডিজিটাল প্রযুক্তির জেরে ভুয়ো হাজিরা, কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা এক জায়গার কাজ অন্য জায়গায় দেখানোর মতো দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হবে। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এই প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে আশা করছেন আধিকারিকরা।


ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কয়েকটি নির্বাচিত ব্লকে এই ১২৫ দিনের কাজের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী দিনে পুরো জেলাজুড়েই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সর্বত্রই বাধ্যতামূলকভাবে ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমেই কাজ শুরু করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙড় ও সাগর ব্লকে এই কর্মসূচি চালু হলেও, আগামী দিনে জেলার ৩১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই এই কাজ ছড়িয়ে পড়বে। প্রতিটি ব্লকে আনুমানিক ৫০ হাজার করে জব কার্ড হোল্ডার বা উপভোক্তা রয়েছে। এই নতুন প্রকল্পে অদক্ষ শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা এবং অল্প দক্ষ শ্রমিকরা সাড়ে চারশো টাকা করে মজুরি পাবেন বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, পূর্বে চলা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের তুলনায় এই নতুন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি বেশ খানিকটা বাড়ানো হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বিষয় : 125DaysWork geofencing corruptionfree

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


১২৫ দিনের কাজে ফাঁকিবাজি বরদাস্ত নয়! দুর্নীতির রাস্তা বন্ধ করতে আসছে ‘লোকেশন লক’

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অতীতে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম ছিল রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এই সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে ক্ষমতার পালাবদলের জল্পনা ও নতুন ব্যবস্থার মাঝে এবার সাধারণ মানুষের জন্য আসছে ১২৫ দিনের কাজের সুযোগ। আর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হতেই যাতে আগের মতো কোনো ভুয়ো বিল বা দুর্নীতির কালো ছায়া না পড়ে, তার জন্য নজিরবিহীন প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ করল প্রশাসন। আর এই আধুনিক ব্যবস্থার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিও ফেন্সিং’ বা সহজ কথায় কাজের নির্দিষ্ট এলাকাকে ডিজিটাল বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলা।নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো কাজের প্রক্রিয়াটি কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শুরু করার ঠিক আগে নির্দিষ্ট সুপারভাইজারকে তাঁর স্মার্টফোনে সংশ্লিষ্ট কাজের জায়গার একটি ডিজিটাল ম্যাপ বা মানচিত্র তৈরি করতে হবে। এরপর কাজের নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকরা যদি ওই নির্দিষ্ট ম্যাপের মাত্র ১০ মিটারের পরিধির মধ্যে উপস্থিত থাকেন, তবেই তাঁদের হাজিরা বৈধ বলে গণ্য হবে এবং মিলবে পারিশ্রমিক। কোনো শ্রমিক যদি কাজের এলাকা বা ওই নির্দিষ্ট ডিজিটাল সীমানা টপকে বাইরে চলে যান, তবে সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমে লাল দাগ বা সতর্কতা ভেসে উঠবে। ফলস্বরূপ, সেই শ্রমিককে অনুপস্থিত হিসেবে ধরা হবে এবং তাঁর পারিশ্রমিকের টাকা সম্পূর্ণ আটকে যাবে। প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের জোরালো দাবি, এই কঠোর ডিজিটাল প্রযুক্তির জেরে ভুয়ো হাজিরা, কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ কিংবা এক জায়গার কাজ অন্য জায়গায় দেখানোর মতো দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ হবে। এর ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং এই প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে আশা করছেন আধিকারিকরা।ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কয়েকটি নির্বাচিত ব্লকে এই ১২৫ দিনের কাজের পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী দিনে পুরো জেলাজুড়েই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সর্বত্রই বাধ্যতামূলকভাবে ‘জিও ফেন্সিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমেই কাজ শুরু করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙড় ও সাগর ব্লকে এই কর্মসূচি চালু হলেও, আগামী দিনে জেলার ৩১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই এই কাজ ছড়িয়ে পড়বে। প্রতিটি ব্লকে আনুমানিক ৫০ হাজার করে জব কার্ড হোল্ডার বা উপভোক্তা রয়েছে। এই নতুন প্রকল্পে অদক্ষ শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা এবং অল্প দক্ষ শ্রমিকরা সাড়ে চারশো টাকা করে মজুরি পাবেন বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, পূর্বে চলা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের তুলনায় এই নতুন প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি বেশ খানিকটা বাড়ানো হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি আনবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত