Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সিউড়িতে টুলু মণ্ডলের আরও একটি বাড়িতে পুলিশের মেগা রেইড, এবার নজরে টুলুর খাস লোক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিউড়িতে টুলু মণ্ডলের আরও একটি বাড়িতে পুলিশের মেগা রেইড, এবার নজরে টুলুর খাস লোক!
বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। ফাইল ছবি

সিউড়ি: বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ নামে পরিচিত ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের হিসাববহির্ভূত বিপুল সম্পত্তির খোঁজে ফের চিরুনি তল্লাশি শুরু করল বীরভূম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিউড়ির একটি বাড়িতে হঠাৎই হানা দেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটির আসল মালিক টুলু নিজেই, তবে সেখানে বসবাস করতেন তাঁর এক বিশ্বস্ত ম্যানেজার। পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত ‘ছোটন’ নামের ওই ম্যানেজার ও সহযোগীর সন্ধানেই এই আচমকা তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।

লালমাটির জেলায় সংগঠিত অপরাধ, বেআইনি কারবার ও বিপুল পরিমাণ হিসাববহির্ভূত অর্থ মজুত রাখার একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে টুলুর বিরুদ্ধে। তবে একাধিক জায়গায় তল্লাশি সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত পুলিশের হাত এড়িয়ে পলাতক এই পাথর ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যেই তাঁর বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে তদন্তকারীরা। মিনারকে সেখান থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত টুলুর হদিশ মিলেনি।

আইনজীবী ও আইনি সুরক্ষার লড়াইয়েও একের পর এক ধাক্কা খেয়েছেন টুলু। গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে রক্ষাকবচ চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে যান। কিন্তু একটি বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় দ্বিতীয় বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট টুলুর রক্ষাকবচ মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে টুলুর জন্য। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (এসিজেএম) তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল, অন্যথায় তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে টুলুর বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে ‘রেড কর্নার নোটিস’। সিউড়ির রাতের এই অভিযান কি তবে ‘পাথরসম্রাট’-এর নাগাল পাওয়ার শেষ চাল? সেই উত্তর খুঁজছে বীরভূমবাসী।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : PoliceRaid CrimeNews BIRBHUMNEWS HiddenStoriesNews Investigation TuluMondal WBNews WestBengalPolice Suri Deucha

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিউড়িতে টুলু মণ্ডলের আরও একটি বাড়িতে পুলিশের মেগা রেইড, এবার নজরে টুলুর খাস লোক!

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
সিউড়ি: বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ নামে পরিচিত ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের হিসাববহির্ভূত বিপুল সম্পত্তির খোঁজে ফের চিরুনি তল্লাশি শুরু করল বীরভূম জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সিউড়ির একটি বাড়িতে হঠাৎই হানা দেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটির আসল মালিক টুলু নিজেই, তবে সেখানে বসবাস করতেন তাঁর এক বিশ্বস্ত ম্যানেজার। পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত ‘ছোটন’ নামের ওই ম্যানেজার ও সহযোগীর সন্ধানেই এই আচমকা তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে।লালমাটির জেলায় সংগঠিত অপরাধ, বেআইনি কারবার ও বিপুল পরিমাণ হিসাববহির্ভূত অর্থ মজুত রাখার একাধিক অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে টুলুর বিরুদ্ধে। তবে একাধিক জায়গায় তল্লাশি সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত পুলিশের হাত এড়িয়ে পলাতক এই পাথর ব্যবসায়ী। ইতিমধ্যেই তাঁর বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করে তদন্তকারীরা। মিনারকে সেখান থেকেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হলেও মূল অভিযুক্ত টুলুর হদিশ মিলেনি।আইনজীবী ও আইনি সুরক্ষার লড়াইয়েও একের পর এক ধাক্কা খেয়েছেন টুলু। গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে রক্ষাকবচ চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ভট্টাচার্যের বেঞ্চে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে গ্রেফতারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে যান। কিন্তু একটি বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকায় দ্বিতীয় বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট টুলুর রক্ষাকবচ মামলা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে।বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে টুলুর জন্য। সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত (এসিজেএম) তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল, অন্যথায় তাঁকে ‘ঘোষিত অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। শুধু তাই নয়, রাজ্য পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে টুলুর বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে ‘রেড কর্নার নোটিস’। সিউড়ির রাতের এই অভিযান কি তবে ‘পাথরসম্রাট’-এর নাগাল পাওয়ার শেষ চাল? সেই উত্তর খুঁজছে বীরভূমবাসী।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত