কলকাতা: বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছাত্র-সংঘর্ষের আঁচ এবার আছড়ে পড়ল শহরের রাজপথে। বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকা এসএফআই (SFI) ও এবিভিপি (ABVP)-র মুখোমুখি মিছিল ঘিরে আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হতেই আসরে নামে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ৮-বি বাসস্ট্যান্ডের সামনে এসএফআইয়ের জমায়েতে আটকে পড়েন রাজ্য সভাপতি দেবাঞ্জন দে এবং যুবনেত্রী দীপ্সিতা ধররা। অন্যদিকে, গোলপার্ক থেকে শুরু হওয়া এবিভিপির পাল্টা মিছিলটিও ঢাকুরিয়া ব্রিজের কাছে পুলিশের কড়া ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। তবে বাধা পেয়েও ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালান গেরুয়া শিবিরের ছাত্রনেতারা।
উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছয় যখন সকাল থেকে ৮-বি বাসস্ট্যান্ড চত্বরে জমায়েত করা এবিভিপি-র একাংশ আচমকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছে যান। পুলিশের নজর এড়িয়ে সরাসরি গেটের মাথায় উঠে নিজেদের সংগঠনের পতাকা ওড়াতে শুরু করেন তাঁরা। এই দৃশ্য দেখার পরেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা বামপন্থী ছাত্রছাত্রীরা। দু'পক্ষের স্লোগান ও পালটা স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।
এই চরম অরাজকতার সূত্রপাত আসলে বুধবার মধ্যরাতে। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বাম ছাত্র সংগঠন ফেটসু (FETSU)-র গভর্নিং বডির বৈঠক চলাকালীন আচমকাই সেখানে ঢুকে হামলা চালায় এবিভিপি-র কয়েকজন সদস্য। ছাত্র সংসদই যেখানে অস্তিত্বহীন, সেখানে কিসের জিবি বৈঠক— এই প্রশ্ন তুলেই তারা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খেপে ওঠেন ফেটসুর সদস্যরা এবং তাঁদের পালটা মারে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় বেশ কয়েকজন এবিভিপি কর্মীকে। বুধবার রাতের সেই হামলার প্রতিবাদেই বৃহস্পতিবার সকালে পথে নামে এসএফআই এবং তাদের পালটা জবাব দিতেই মহামিছিলের ডাক দেয় এবিভিপি। দুপুর গড়াতেই দুই শিবিরের এই সম্মুখ সমরে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকা।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন