যে হাতগুলো একদিন আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছিল, বার্ধক্যের ভারে আজ তারা নিজেরাই একটু শক্ত আশ্রয়ের খোঁজে। প্রতি বছর ২১ আগস্ট ক্যালেন্ডারের পাতায় আসে ‘বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস’ (World Senior Citizens' Day)।
এই দিনটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছাবার্তা বা একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকার নয়; বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই মানুষদের আত্মত্যাগের কথা, যাঁদের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে আজকের বর্তমান প্রজন্ম। সমাজ, পরিবার এবং দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে প্রবীণদের আজীবন অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এই দিনের মূল লক্ষ্য।
একদিকে আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা আর নিউক্লিয়ার পরিবারের রমরমা, অন্যদিকে একাকীত্বে দিন কাটানো প্রবীণ প্রজন্ম। সমাজ যত ডিজিটাল হচ্ছে, বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষগুলোর দূরত্ব যেন সমাজের মূল স্রোত থেকে ততটাই বাড়ছে। অথচ তাঁদের সঞ্চিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং দিকনির্দেশনা যে কোনো পরিবারের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
প্রয়োজন কেবল আর্থিক নিরাপত্তা নয়, একটু সময় আর সহমর্মিতা। আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার বৃদ্ধাশ্রমের চার দেওয়াল নয়, প্রতিটি প্রবীণ নাগরিকের শেষ বয়স কাটুক আপনজনের ভালোবাসায় ও পূর্ণ নিরাপত্তায়। তাঁদের অভিজ্ঞতা আমাদের পথ দেখাক, আর আমাদের দায়িত্ববোধ তাঁদের এনে দিক নিশ্চিত স্বস্তি।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন