পুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল, রাতভর ঠাকুর দেখা আর জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু এই চেনা ছবির বাইরে অনেকেই চান কয়েক দিনের জন্য শহর থেকে দূরে, একটু শান্তিতে সময় কাটাতে। গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লে কলকাতার কাছাকাছিই এমন বেশ কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে মিলবে পাহাড়, জঙ্গল, নদী কিংবা নির্জন সমুদ্রের স্বাদ।
এ বার পুজোর ছুটিতে একটু অন্যরকম কিছু পরিকল্পনা থাকলে নজরে রাখতে পারেন এই পাঁচ গন্তব্য।
গনগনি
পশ্চিম মেদিনীপুরের গনগনি যেন বাংলার মাটিতে ছোট্ট এক ক্যানিয়ন। শিলাবতী নদীর পাশে লাল মাটির খাড়া গিরিখাত আর পাথুরে ভূপ্রকৃতিই এখানকার মূল আকর্ষণ। কলকাতা থেকে গাড়িতে পৌঁছে একদিকে যেমন পাওয়া যাবে প্রকৃতির অন্যরকম রূপ, তেমনই কাছেই গড়বেতার পুরনো মন্দিরগুলিও ঘুরে দেখা যায়।
মুরগুমা
পাহাড়, জঙ্গল আর জল তিনেরই মেলবন্ধন দেখতে চাইলে পুরুলিয়ার মুরগুমা হতে পারে সেরা পছন্দ। অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে এই এলাকাটি বেশ শান্ত। লেকের জলে পাহাড়ের ছায়া, চারপাশের সবুজ আর নিরিবিলি পরিবেশ শহরের ব্যস্ততা থেকে একেবারে আলাদা অনুভূতি দেবে। প্রকৃতির মধ্যে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে এই জায়গা তালিকায় রাখা যায়।
বড়ন্তি
বড়ন্তির সৌন্দর্য যেন ছবির মতো। বিহারীনাথ ও পঞ্চকোট পাহাড়ের মাঝখানে থাকা এই ছোট্ট জনপদে বিকেলের আলোয় লেকের ধারে সময় কাটানোর মজাই আলাদা। শহরের কোলাহল এড়িয়ে শান্তভাবে ঘোরাঘুরি করতে চাইলে বড়ন্তি হতে পারে পুজোর আদর্শ গন্তব্য।
তাবাকোশি
পাহাড়ের পথে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা যাঁদের পছন্দ, তাঁদের জন্য তাবাকোশি বেশ আকর্ষণীয়। রংভাঙ নদীর ধারে এই পাহাড়ি জনপদে যাওয়ার পথে দেখা মিলবে চা-বাগান, সবুজ পাহাড় আর নানা ছোট ছোট গ্রাম। চারপাশের শান্ত পরিবেশ আর পাহাড়ি হাওয়ায় কয়েকটা দিন কাটালে পুজোর ছুটির ক্লান্তিও অনেকটাই কেটে যেতে পারে।
বগুরান জলপাই
পুজোর ভিড় থেকে পালিয়ে যদি সমুদ্রের কাছে যেতে চান, তা হলে বগুরান জলপাইয়ের কথা ভাবতে পারেন। পূর্ব মেদিনীপুরের এই অপেক্ষাকৃত শান্ত সৈকতে নেই ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের চেনা কোলাহল। ঝাউগাছের সারি, সমুদ্রের ঢেউ আর ফাঁকা সৈকত ধরে হাঁটতে হাঁটতে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতাও হতে পারে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
বিষয় : Durga Puja Travel

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন