ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি। দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব, জন্মাষ্টমী। পুজো-অর্চনা, উপবাস আর মধ্যরাতের কৃষ্ণজন্মের অপেক্ষার পাশাপাশি এই উৎসবের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে গান, কীর্তন আর বাঙালির চিরচেনা খাবারের স্বাদ।
জন্মাষ্টমীর রাতে কৃষ্ণের অভিষেক ও পুজোর সময় বহু বাড়িতেই শোনা যায় ভজন, নামসংকীর্তন ও কৃষ্ণনাম। ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’-এর মহামন্ত্র থেকে বৈষ্ণব পদাবলীর নানা গান কৃষ্ণভক্তির আবহকে আরও গভীর করে তোলে। প্রভাতফেরি, কীর্তন কিংবা বাড়ির পুজো সবেতেই ভক্তিগানের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বাংলার লোকসংস্কৃতি এবং সঙ্গীতের সঙ্গেও কৃষ্ণভাবনার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বৈষ্ণব পদ, বাউলগান এবং বিভিন্ন ভক্তিমূলক গানে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, গোপালের শৈশব আর কৃষ্ণলীলার নানা দিক উঠে এসেছে। শুধু পুরনো ভজন বা কীর্তনেই সেই ধারা সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে বদলেছে পরিবেশনের ধরনও। এখন ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মে জন্মাষ্টমীকে ঘিরে প্রকাশ পাচ্ছে নতুন ভক্তিগীতি, কৃষ্ণনাম এবং ফিউশনধর্মী পরিবেশনা।
তবে বাঙালির জন্মাষ্টমী মানেই শুধু গান আর পুজো নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাবারেরও বিশেষ ঐতিহ্য। গোপালের প্রিয় মাখন-ননী থেকে শুরু করে তালের তৈরি নানা পদ নিয়ে থাকে বিশেষ আয়োজন। তালের ক্ষীর, তালের ফুলুরি, তালের লুচি এই পদগুলি উৎসবের সঙ্গে বহুদিন ধরেই জড়িয়ে রয়েছে। গোপালের ভোগে যেমন এই খাবারের জায়গা রয়েছে, তেমনই পরিবারের সকলের জন্যও তৈরি হয় নানা রকম তালের পদ।
বিষয় : Janmashtami Festival

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন