মালদহ: নাগরিকত্বের নথিতে স্পষ্ট লেখা ‘ভারতীয়’, অথচ বাস্তবে আন্তর্জাতিক কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে প্রায় দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত জেলবন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে মালদহের বামনগোলা ব্লকের চাঁদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তালতলা গ্রামের ২৪টি পরিবারকে। ২০০৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর থেকেই দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ওপারেই আটকে পড়ে এই পরিবারগুলি। একদিকে ভারত আর অন্যদিকে বাংলাদেশ—মাঝখানে থাকা পুনর্ভবা নদীকে সীমান্তরেখা করে বেঁচে থাকা এই গ্রামবাসীদের ইচ্ছেমতো দেশের মূল ভূখণ্ডে আসার কোনো উপায় নেই। বিএসএফকে পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে দিনে যাতায়াত করতে পারলেও, রাতের বেলা সীমান্তের গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা বা জরুরি প্রয়োজনেও তাঁরা সম্পূর্ণ আটকে পড়েন।
শুধু বন্দিদশাই নয়, চরম নিরাপত্তাহীনতা প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়াচ্ছে এই মানুষগুলোকে। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পুনর্ভবা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা গ্রামে ঢুকে অবাধে গবাদি পশু লুট করে নিয়ে যায় এবং বাধা দিলে চালায় বেধড়ক মারধর। এমন দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতারের এপারে পুনর্বাসনের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন গ্রামবাসীরা। সম্প্রতি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তালতলা বিওপির বিএসএফ আধিকারিক ও পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে গ্রাম পরিদর্শন করেন রাজ্যের সেচ ও আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু। তিনি গ্রামবাসীদের চরম সংকটের কথা শুনে তাঁদের কাঁটাতারের এপারে নিয়ে এসে স্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন