Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

দেউচার ভিটেতে ৫০ কোটির গুপ্তধন! আলমারি খুলতেই চোখ ছানাবড়া পুলিশের, গ্রেফতার রহস্যময় মিনার ও তাঁর পুত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬
দেউচার ভিটেতে ৫০ কোটির গুপ্তধন! আলমারি খুলতেই চোখ ছানাবড়া পুলিশের, গ্রেফতার রহস্যময় মিনার ও তাঁর পুত্র
গ্রেফতার টুলু ঘনিষ্ঠ বীরভূমের মিনার মণ্ডল। ছবি-সংগৃহীত

বীরভূম: দেউচার শান্ত গ্রামীণ আমেজ রাতারাতি বদলে গেল থ্রিলার সিনেমার ক্রাইম সিনারিওতে। দেউচার এক সাধারণ ঘরের আলমারি খুলতেই গোয়েন্দাদের চোখ চড়কগাছ! বেরিয়ে এল বাণ্ডিল বাণ্ডিল কাঁচা টাকা আর ঝলমলে সোনার বার। দিনভর ম্যারাথন তল্লাশি ও ১৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস টাকা গোনার পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হলো বাড়ির মালিক মিনার মণ্ডল ও তাঁর ছেলেকে। উদ্ধার হওয়া নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি ওজনের সোনার বার মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ধৃতদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর রহস্যের উৎসসন্ধানে গোটা বাড়িটি ইতিমধ্যেই সিল করে দিয়েছে পুলিশ, এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার চাদরে।

বুধবার ভোর রাতে বীরভূমের মহম্মদবাজারের দেউচায় যখন গোটা এলাকা ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক ৩টে নাগাদ আচমকাই মিনারের বাড়ি ঘেরাও করে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বল। পুলিশ বারবার দরজা খোলার দাবি জানালেও ভেতর থেকে সাড়াশব্দ মেলেনি। বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। এরপর ঘরের একটি আলমারি খুলতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। কাগজ ও কাপড়ে সযত্নে মুড়ে রাখা ছিল কোটি কোটি টাকার নোট। পরিস্থিতি সামাল দিতে আনা হয় পাঁচটি নোট গোনার মেশিন। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে চলা এই উদ্ধারপর্বের প্রতিটা সেকেন্ড ক্যামেরা বন্দি করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই কালো টাকার পাহাড় দেখে ততক্ষণে থ বনে গিয়েছেন খোদ তদন্তকারীরাও।

প্রাথমিক জেরায় মিনার মণ্ডল দাবি করেছেন, এই বিপুল সম্পদ তাঁর নিজের নয়। এলাকার পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের বেআইনি সিন্ডিকেটের হাত ধরেই এই বিপুল টাকা ও সোনা তাঁর বাড়িতে এসে পৌঁছেছিল। পুলিশের অনুমান, কর ফাঁকি ও বেআইনি লেনদেনের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে সোনা ও নগদ টাকাই ছিল এই চক্রের মূল হাতিয়ার। তবে মিনারের স্ত্রীর মুখে শোনা গেছে অন্য সুর। তাঁর দাবি, প্রায় বছরখানেক আগে টুলু মণ্ডল জোর করেই এই সম্পদ তাঁদের জিম্মায় রেখে গিয়েছিলেন এবং আলমারির চাবিও তিনি নিজেই নিয়ে যান। নিজেদের নির্দোষ দাবি করে তিনি জানান, সাধারণ পেনশনের টাকায় চলা সংসারে কী মারাত্মক রহস্য জমা হয়ে ছিল, তা নাকি তাঁদের কল্পনারও বাইরে ছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গাইকোয়াদ নীলেশ শ্রীকান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মিনার ও তাঁর ছেলের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন। বীরভূমের আনাচেকানাচে আর কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে এই ধরনের গুপ্তধন, আর এই বেআইনি সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কার কার হাত রয়েছে, তা বের করতে তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনছে পুলিশ।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : westbengalpolice HiddenStoriesNews BirbhumRaid DeuchaCrime GoldAndCashSeized BigUpdate

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬


দেউচার ভিটেতে ৫০ কোটির গুপ্তধন! আলমারি খুলতেই চোখ ছানাবড়া পুলিশের, গ্রেফতার রহস্যময় মিনার ও তাঁর পুত্র

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image
বীরভূম: দেউচার শান্ত গ্রামীণ আমেজ রাতারাতি বদলে গেল থ্রিলার সিনেমার ক্রাইম সিনারিওতে। দেউচার এক সাধারণ ঘরের আলমারি খুলতেই গোয়েন্দাদের চোখ চড়কগাছ! বেরিয়ে এল বাণ্ডিল বাণ্ডিল কাঁচা টাকা আর ঝলমলে সোনার বার। দিনভর ম্যারাথন তল্লাশি ও ১৯ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস টাকা গোনার পর অবশেষে গ্রেপ্তার করা হলো বাড়ির মালিক মিনার মণ্ডল ও তাঁর ছেলেকে। উদ্ধার হওয়া নগদ সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি ওজনের সোনার বার মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। ধৃতদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর রহস্যের উৎসসন্ধানে গোটা বাড়িটি ইতিমধ্যেই সিল করে দিয়েছে পুলিশ, এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার চাদরে।বুধবার ভোর রাতে বীরভূমের মহম্মদবাজারের দেউচায় যখন গোটা এলাকা ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক ৩টে নাগাদ আচমকাই মিনারের বাড়ি ঘেরাও করে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বল। পুলিশ বারবার দরজা খোলার দাবি জানালেও ভেতর থেকে সাড়াশব্দ মেলেনি। বাধ্য হয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। এরপর ঘরের একটি আলমারি খুলতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। কাগজ ও কাপড়ে সযত্নে মুড়ে রাখা ছিল কোটি কোটি টাকার নোট। পরিস্থিতি সামাল দিতে আনা হয় পাঁচটি নোট গোনার মেশিন। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে চলা এই উদ্ধারপর্বের প্রতিটা সেকেন্ড ক্যামেরা বন্দি করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই কালো টাকার পাহাড় দেখে ততক্ষণে থ বনে গিয়েছেন খোদ তদন্তকারীরাও।প্রাথমিক জেরায় মিনার মণ্ডল দাবি করেছেন, এই বিপুল সম্পদ তাঁর নিজের নয়। এলাকার পরিচিত পাথর ব্যবসায়ী নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডলের বেআইনি সিন্ডিকেটের হাত ধরেই এই বিপুল টাকা ও সোনা তাঁর বাড়িতে এসে পৌঁছেছিল। পুলিশের অনুমান, কর ফাঁকি ও বেআইনি লেনদেনের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে সোনা ও নগদ টাকাই ছিল এই চক্রের মূল হাতিয়ার। তবে মিনারের স্ত্রীর মুখে শোনা গেছে অন্য সুর। তাঁর দাবি, প্রায় বছরখানেক আগে টুলু মণ্ডল জোর করেই এই সম্পদ তাঁদের জিম্মায় রেখে গিয়েছিলেন এবং আলমারির চাবিও তিনি নিজেই নিয়ে যান। নিজেদের নির্দোষ দাবি করে তিনি জানান, সাধারণ পেনশনের টাকায় চলা সংসারে কী মারাত্মক রহস্য জমা হয়ে ছিল, তা নাকি তাঁদের কল্পনারও বাইরে ছিল।বৃহস্পতিবার সকালে বীরভূমের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) গাইকোয়াদ নীলেশ শ্রীকান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মিনার ও তাঁর ছেলের গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন। বীরভূমের আনাচেকানাচে আর কোথায় ছড়িয়ে রয়েছে এই ধরনের গুপ্তধন, আর এই বেআইনি সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কার কার হাত রয়েছে, তা বের করতে তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনছে পুলিশ।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত