Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

জাতীয় গেমসের পুরস্কারের টাকা গেল কোথায়? ‘যুবসাথী’র নাম করে বঞ্চিত বাংলার পদকজয়ীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় গেমসের পুরস্কারের টাকা গেল কোথায়? ‘যুবসাথী’র নাম করে বঞ্চিত বাংলার পদকজয়ীরা!
ফাইল চিত্র

কলকাতা: উত্তরাখণ্ডে আয়োজিত ৩৮তম জাতীয় গেমসে সোনা, রূপো ও ব্রোঞ্জ জিতে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন বাংলার বহু অ্যাথলিট। অথচ দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি মতো তাঁদের প্রাপ্য সরকারি আর্থিক পুরস্কারের এক টাকাও মেলেনি। অভিযোগ উঠেছে, গেমস শুরুর আগে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়া দপ্তর সোনা, রূপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের জন্য যথাক্রমে তিন, দুই ও এক লক্ষ টাকা পুরস্কারের যে ঘোষণা করেছিল, শেষ মুহূর্তে সেই পুরো তহবিলই ডাইভার্ট করে খরচ করে ফেলা হয়েছে রাজ্য সরকারের ভোটমুখী প্রকল্প ‘যুবসাথী’তে! ফলে সরকারি উপেক্ষা ও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ার ক্ষোভে এখন ফুঁসছেন প্রণতি দাস, মৌমিতা মণ্ডলের মতো একাধিক পদকজয়ী তারকারা।

২০২৫ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত ওই জাতীয় গেমসে ১৬টি সোনা, ১৩টি রূপো ও ১৮টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৭টি পদক পেয়ে দেশের মধ্যে অষ্টম স্থান দখল করেছিল বাংলা। ট্র্যাকে ও পুলে অভাবনীয় পারফরম্যান্স দেখানো একাধিক পদকজয়ী ক্রীড়াবিদ বারবার ক্রীড়া দপ্তরে ইমেইল করেও কোনো সদুত্তর পাননি বলে জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় আর্থিক পুরস্কারের পরিমাণ অনেক কম, তার ওপর সেইটুকু টাকাও না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে অ্যাথলিটদের। এমনকি উপযুক্ত মূল্যায়নের অভাবে প্রণতি নায়েক বা স্বপ্না বর্মনের মতো অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদরা যে ইতিমধ্যে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই উদাহরণও টেনে এনেছেন ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়রা।

জাতীয় গেমসে পদকজয়ীদের এই করুণ দশা ও বঞ্চনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (BOA)। সংগঠনের সভাপতি চন্দন রায়চৌধুরি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তাঁরা বিওএ-র নিজস্ব ঘোষিত পুরস্কার দিয়ে দিলেও সরকারি অংশের অর্থের জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টে সূত্রের খবর, ক্রীড়া দপ্তর অর্থ বরাদ্দের কাজ অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিল, কিন্তু ভোটের মুখে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আর্থিক ঘাটতি মেটাতে গিয়ে পদকজয়ীদের এই বিশেষ ফান্ড রাতারাতি খালি করে দেওয়া হয়।

রাজনীতি আর প্রকল্পের চাপে খেলোয়াড়দের এমন প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্য ক্রীড়ামহলে জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে!


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : TMC BreakingNews KolkataNews HiddenStoriesNews WestBengalSports NationalGames PranatiDas BengalAthletes

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


জাতীয় গেমসের পুরস্কারের টাকা গেল কোথায়? ‘যুবসাথী’র নাম করে বঞ্চিত বাংলার পদকজয়ীরা!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image
কলকাতা: উত্তরাখণ্ডে আয়োজিত ৩৮তম জাতীয় গেমসে সোনা, রূপো ও ব্রোঞ্জ জিতে রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন বাংলার বহু অ্যাথলিট। অথচ দেড় বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি মতো তাঁদের প্রাপ্য সরকারি আর্থিক পুরস্কারের এক টাকাও মেলেনি। অভিযোগ উঠেছে, গেমস শুরুর আগে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়া দপ্তর সোনা, রূপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের জন্য যথাক্রমে তিন, দুই ও এক লক্ষ টাকা পুরস্কারের যে ঘোষণা করেছিল, শেষ মুহূর্তে সেই পুরো তহবিলই ডাইভার্ট করে খরচ করে ফেলা হয়েছে রাজ্য সরকারের ভোটমুখী প্রকল্প ‘যুবসাথী’তে! ফলে সরকারি উপেক্ষা ও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ার ক্ষোভে এখন ফুঁসছেন প্রণতি দাস, মৌমিতা মণ্ডলের মতো একাধিক পদকজয়ী তারকারা।২০২৫ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত ওই জাতীয় গেমসে ১৬টি সোনা, ১৩টি রূপো ও ১৮টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৪৭টি পদক পেয়ে দেশের মধ্যে অষ্টম স্থান দখল করেছিল বাংলা। ট্র্যাকে ও পুলে অভাবনীয় পারফরম্যান্স দেখানো একাধিক পদকজয়ী ক্রীড়াবিদ বারবার ক্রীড়া দপ্তরে ইমেইল করেও কোনো সদুত্তর পাননি বলে জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এমনিতেই অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় আর্থিক পুরস্কারের পরিমাণ অনেক কম, তার ওপর সেইটুকু টাকাও না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে অ্যাথলিটদের। এমনকি উপযুক্ত মূল্যায়নের অভাবে প্রণতি নায়েক বা স্বপ্না বর্মনের মতো অভিজ্ঞ ক্রীড়াবিদরা যে ইতিমধ্যে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই উদাহরণও টেনে এনেছেন ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়রা।জাতীয় গেমসে পদকজয়ীদের এই করুণ দশা ও বঞ্চনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (BOA)। সংগঠনের সভাপতি চন্দন রায়চৌধুরি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তাঁরা বিওএ-র নিজস্ব ঘোষিত পুরস্কার দিয়ে দিলেও সরকারি অংশের অর্থের জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টে সূত্রের খবর, ক্রীড়া দপ্তর অর্থ বরাদ্দের কাজ অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিল, কিন্তু ভোটের মুখে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আর্থিক ঘাটতি মেটাতে গিয়ে পদকজয়ীদের এই বিশেষ ফান্ড রাতারাতি খালি করে দেওয়া হয়।রাজনীতি আর প্রকল্পের চাপে খেলোয়াড়দের এমন প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার ঘটনায় রাজ্য ক্রীড়ামহলে জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে!হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত