বারুইপুর: বারুইপুর: ভরদুপুরে তীব্র বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার দোতলা বাড়িতে ঘটা এই মারাত্মক বিস্ফোরণের অভিঘাতে আস্ত বাড়িটির একাংশ মুহূর্তে ধুলোয় মিশে গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কংক্রিটের মজবুত পিলার পর্যন্ত ভেঙে খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায় এবং দেওয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের প্রবল ধাক্কায় বাড়ির জানলা ও দরজার ফ্রেম প্রায় ১০০ মিটার দূরে ছিটকে গিয়ে আছড়ে পড়ে। এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বারুইপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী এবং এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে।
বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত উত্তরভাগ লালপোল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত তৃণমূল নেতা দ্বিজেল মণ্ডলের দোতলা বাড়িতেই শুক্রবার এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটে। বারুইপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে অতীতে তৃণমূল আমলে বহুবার বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধারের মতো একাধিক প্রাণঘাতী ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে রাজ্যবাসী। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ-প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেই খোদ শাসকদলের প্রাক্তন নেতার বাড়িতে এমন বিধ্বংসী বিস্ফোরণে চরম শোরগোল পড়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেই হয়তো এমন কাণ্ড ঘটেছে।
তবে পুলিশের এই প্রাথমিক তত্ত্ব মানতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে বিজেপি ও সিপিএম নেতৃত্ব। বিরোধীদের চাঁচাছোলা অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন ওই তৃণমূল নেতা। নির্বাচনের পর এলাকায় ব্যাপক হিংসা ও সন্ত্রাস ছড়ানোর ছক কষেই দোতলা বাড়িটির ভেতর বিপুল পরিমাণ তাজা বোমা ও বিস্ফোরক বারুদ মজুত করে রাখা হয়েছিল। কোনও কারণে সেই বোমার স্তূপেই আগুন লেগে গিয়ে এমন কানফাটানো বিস্ফোরণ ঘটেছে। মজুত বোমার ধ্বংসলীলা ধামাচাপা দিতেই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের গল্প খাড়া করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন