সপ্তাহান্তে দু’দিনের ছুটি মিললেই কোথাও বেরিয়ে পড়তে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই ছুটিটুকু যদি কাটে ট্রাফিক আর ভিড়ের মধ্যে, তা হলে আর শান্তি কোথায়! তাই এবার দিঘা, পুরী বাদ দিয়ে ঘুরতে যাওয়ার তালিকায় রাখতে পারেন এমন এক সমুদ্রসৈকত, যেখানে শান্ত পরিবেশে সমুদ্রের ধারে নিরিবিলি দু’টো দিন কাটাতে পারবেন। আর সামনে যখন পুজোর ছুটি, তখন এই ঠিকানাটি আরও একবার মনে করে রাখা যায়। সমুদ্রের পাশাপাশি এখানে পাবেন ঝাউবন, লাল কাঁকড়া আর অনেকটা একান্ত সময়।
বালেশ্বর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরের পরীখি এখনও অনেকটাই অফবিট। সৈকতে পা রাখলেই চোখে পড়বে লাল কাঁকড়ার দল। চাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের সামনে বসেও থাকতে পারেন। সকালে সূর্যোদয় আর বিকেলে সূর্যাস্ত দেখার জন্যও সৈকতটি বেশ সুন্দর। পরীখি ঘুরে আশপাশটা দেখতে চাইলে যেতে পারেন বুড়িবালাম নদীর দিকে। নৌকায় চেপে নদীর জলপথে ঘোরার সুযোগ রয়েছে। আরও একটু সময় হাতে থাকলে গাড়ি নিয়ে চলে যান কাসাফল। পথের শেষদিকে ঝাউবনের মধ্যে কিছুটা হাঁটতে হবে। শরৎকালে সেই পথের দু’পাশে কাশফুলের দেখাও মিলবে। দু’দিনের ছুটির জন্য পরীখি-কাসাফল যথেষ্ট। তবে পুজোর মতো লম্বা ছুটি হাতে পেলে বালেশ্বরের আশপাশের আরও কিছু জায়গা যোগ করতে পারেন। ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দির, ইমামি জগন্নাথ মন্দির ঘুরে নিতে পারেন। প্রকৃতির টান থাকলে একদিন পঞ্চলিঙ্গেশ্বরের জন্যও রাখা যায়।
কলকাতা থেকে কীভাবে যাবেন?
ট্রেনে গেলে হাওড়া বা সাঁতরাগাছি থেকে বালেশ্বরগামী ট্রেন ধরতে পারেন। বাসেও বালেশ্বর যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। গাড়িতে গেলে সাধারণত ৬-৭ ঘণ্টার মতো সময় ধরতে পারেন। বালেশ্বর পৌঁছে স্থানীয় গাড়ি ভাড়া করে পরীখি-কাসাফল ঘোরা সুবিধাজনক।
থাকার ব্যবস্থা কেমন?
পরীখি এখনও বড় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠেনি, তাই থাকার জায়গার সংখ্যাও সীমিত। কয়েকটি হোটেলে এসি ও নন-এসি ঘর পাওয়া যায়। কিছু জায়গায় তাঁবুতে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। খাবার সাধারণত থাকার জায়গাতেই মেলে। এখানে ঘরোয়া খাবার আর স্থানীয় মাছের স্বাদ পাবেন।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন