কলকাতা: টানটান নাটকের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ি থেকে সিআইডি-র হাতে গ্রেপ্তার হওয়া তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের প্রথম রাত কাটল চরম উৎকণ্ঠায়। রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনের লক-আপে গোটা রাত এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেননি তিনি। তাঁর চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল উদ্বেগের ছাপ। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে সামান্য চা ও বিস্কুট মুখে দেওয়ার পরই কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে নিয়ে মেদিনীপুর আদালতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন সিআইডি আধিকারিকরা।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে দিতেই তৎপর হয়ে ওঠে সিআইডি। দ্রুত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে ফেলে জমি কেলেঙ্কারি মামলায় সুমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসএসকেএম হাসপাতালে প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষার পর তাঁকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় ভবানী ভবনে। সেখানে গোয়েন্দাদের ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েন তিনি। জমি দুর্নীতির বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় পাচার হল, হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে কি না এবং এর নেপথ্যে প্রভাবশালী কারা জড়িত—এমন একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তবে তদন্তকারী সূত্রে দাবি, দীর্ঘ জেরায় কার্যত নীরবতাই বজায় রেখেছেন সুমিত এবং কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভবানী ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত টানা জেরার পর খাবার দেওয়া হলেও সুমিতের চোখে ঘুম ছিল না। উদ্বেগে গোটা রাত লক-আপের ভেতরেই পায়চারি করে কাটান তিনি। শুক্রবার সকালে নিয়মমাফিক চা-বিস্কুট পর্ব মিটতেই বেলা ৩টেয় মেদিনীপুর আদালতে পেশের উদ্দেশ্যে তাঁকে কনভয়ে তোলা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, সুমিত একা নন, জমি সংক্রান্ত এই বিপুল কারচুপি বাস্তবায়িত করতে তৎকালীন একাধিক পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিক প্রত্যক্ষ মদত দিয়েছিলেন। ফলে তাঁদের চিহ্নিত করতেও জাল গোটাচ্ছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। পাশাপাশি এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র থাকায় গোটা বিষয়টির ওপর কড়া নজর রাখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ইডি)।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন