নয়াদিল্লি: রাজ্য রাজনীতিতে গৃহযুদ্ধের দাবানলে দল বিভক্ত হয়েছে আগেই।
২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে খোলাখুলি ‘বিদ্রোহ’ ঘোষণা করেছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে নিয়েছিলেন অরূপ রায়, সন্দীপন সাহাদের মতো আরও ৯ জন বিধায়ককে। এবার জোড়াফুল শিবিরের সেই অভ্যন্তরীণ গৃহদাহ পৌঁছাল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।
তবে উপনির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল মমতা শিবির। ঋতব্রতসহ ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের পদ খারিজের আর্জিতে সাড়া না দিয়ে সোমবার মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, সংবিধান মেনেই বিধায়কদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চূড়ান্ত একচ্ছত্র ক্ষমতা স্পিকারের। তাই দলত্যাগ বিরোধী আইনের ফয়সালা বিধানসভার স্পিকারের কোর্টেই ফেরত পাঠাল শীর্ষ আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত ২৬-এর নির্বাচনের পরপরই। মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূলের নাম, প্রতীক ও তহবিলের ওপর অধিকার দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা।
সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে ওই ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন জানান মমতা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্পিকার কোনো পদক্ষেপ না করায় এবং উল্টে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়ায়, সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করে জরুরি আবেদন জানান শোভনদেব।
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মমতা তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল।
তবে শীর্ষ আদালত কোনও কড়া সময়সীমা বেঁধে দিতে অস্বীকার করে। ২০২০ সালের একটি রায় উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, বিধায়ক পদ খারিজের সাংবিধানিক একচ্ছত্র অধিকার স্পিকারেরই।
তবে যুক্তিসঙ্গত সময়, অর্থাৎ আবেদনের তিন মাসের মধ্যে, আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকারকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে বলেন, ‘‘আমরা নিজেরাই অনেক সময় ডেডলাইন মানতে পারি না, তাই নির্দেশ দেওয়ার আগে সেটা মাথায় রাখতে হবে। যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার।”
প্রকৃতপক্ষে, উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান মমতা শিবিরের আইনি কৌশলে বড়সড় ধাক্কা দিল। অন্যদিকে, এর আগেই নির্বাচন কমিশন জোড়াফুল প্রতীক ও ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করেছে।
৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য মমতা শিবিরের নাম হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঋতব্রত শিবিরের নতুন নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’।
কলকাতা হাইকোর্টেও বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি বাতিলের মামলায় কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পায়নি মমতা শিবির। এই অবস্থায় ৮ অক্টোবরের মধ্যে স্পিকার রথীন বসু কী সিদ্ধান্ত নেন, কিংবা ঋতব্রতদের বিধায়কপদ আদৌ খারিজ হয় কিনা, সেদিকেই এখন একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন