Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Orangutang Bengal : ওরাংওটাং পাচারে বাংলা যোগ! দিঘায় আটক তিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Orangutang Bengal : ওরাংওটাং পাচারে বাংলা যোগ! দিঘায় আটক তিন
ওরাংওটাং পাচারে বাংলা যোগ! দিঘায় আটক তিন। ফাইল ছবি

দিঘা: যে প্রজাতি ভারত তো দূর, পার্শ্ববর্তী কোনও প্রতিবেশী দেশেই মেলে না, সেই বিরলতম বোর্নিও-সুমাত্রার ওরাংওটাং কী ভাবে ভেসে এল বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বনাঞ্চলে? ওড়িশার উদয়পুর-তালসারির জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং শাবক উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে এবার চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের হদিস পেল ওড়িশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। আর এই আন্তর্জাতিক পাচারের জাল গুটাতে গিয়েই সোজা সমীকরণ মিলল পশ্চিমবঙ্গের। দিঘার একটি হোটেল থেকে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে ওড়িশা এসটিএফ। ফলে এই পাচারকাণ্ডে জোরালো হয়ে উঠল ‘বাংলা যোগ’।

গত ৮ সেপ্টেম্বর ওড়িশা বন দফতরের কর্মীরা উদয়পুর-তালসারির জঙ্গলে পাঁচটি ওরাংওটাং শাবককে খেলা করতে দেখেন। যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয় তিন থেকে চার কেজি ওজনের ওই পাঁচটি শাবক। বন দফতর সূত্রে খবর, এদের মধ্যে তিনটি পুরুষ ও দুটি মেয়ে শাবক রয়েছে, যাদের বয়স আনুমানিক ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। 

ঘটনার তদন্তে নেমে চন্দনেশ্বর ও উদয়পুর থেকে দিঘামুখী প্রধান সড়কের অন্তত ৪৬টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখানে একটি সন্দেহজনক এসইউভি (SUV) গাড়ির যাতায়াত নজর কাড়ে তদন্তকারীদের। এর পরেই দিঘায় একটি নির্দিষ্ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তিন অভিযুক্তকে। উদ্ধার হওয়া শাবকগুলিকে পাচারের উদ্দেশ্যে দিঘা সীমান্ত দিয়ে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক ছিল কি না, তা আটক ব্যক্তিদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।

প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা (IUCN)-র বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকাভুক্ত এই ওরাংওটাং মূলত তিনটি প্রজাতিতে বিভক্ত। বোর্নিয়ান, সুমাত্রান এবং টাপানুলি। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপের গভীর ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্যের উঁচু গাছই এদের প্রাকৃতিক বাসস্থান। অত্যন্ত ধীরস্থির, একা থাকতে পছন্দ করা এবং বুদ্ধিমত্তায় অনন্য এই প্রাণীর আন্তর্জাতিক কালোবাজারে কোটি কোটি টাকার পোষ্য-চাহিদা রয়েছে। সেই বিপুল টাকার লোভেই আন্তর্জাতিক চোরাচালানকারীরা মা-ওরাংওটাংদের মেরে এই দুগ্ধপোষ্য শাবকগুলিকে আন্তর্জাতিক জলপথ বা সীমান্ত সীমান্ত পার করে ভারতে ঢুকিয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা।

বর্তমানে পাঁচটি উদ্ধার হওয়া শাবককেই ভুবনেশ্বরের বিখ্যাত নন্দনকানন চিড়িয়াখানার বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে চব্বিশ ঘণ্টার কড়া পর্যবেক্ষণ। মা-হারা অতিক্ষুদ্র এই প্রজাতিটি যাতে মানসিক চাপমুক্ত থাকে, তার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ঘর। 

শারীরিক মেজাজ শান্ত রাখতে খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে সুজি ও সেদ্ধ আপেল। এমনকি মেজাজ শান্ত ও মানসিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ওই বিশেষ ঘরে দিনরাত বাজানো হচ্ছে মৃদু ধ্রুপদী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। ওড়িশা এসটিএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, দিঘায় ধৃত ৩ জনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের কী সরাসরি লিংক রয়েছে, তা খুব দ্রুতই প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হবে।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Orangutang Bengal : ওরাংওটাং পাচারে বাংলা যোগ! দিঘায় আটক তিন

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
দিঘা: যে প্রজাতি ভারত তো দূর, পার্শ্ববর্তী কোনও প্রতিবেশী দেশেই মেলে না, সেই বিরলতম বোর্নিও-সুমাত্রার ওরাংওটাং কী ভাবে ভেসে এল বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বনাঞ্চলে? ওড়িশার উদয়পুর-তালসারির জঙ্গল থেকে পাঁচটি ওরাংওটাং শাবক উদ্ধারের ঘটনার তদন্তে নেমে এবার চাঞ্চল্যকর আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের হদিস পেল ওড়িশা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। আর এই আন্তর্জাতিক পাচারের জাল গুটাতে গিয়েই সোজা সমীকরণ মিলল পশ্চিমবঙ্গের। দিঘার একটি হোটেল থেকে ইতিমধ্যেই তিনজনকে আটক করেছে ওড়িশা এসটিএফ। ফলে এই পাচারকাণ্ডে জোরালো হয়ে উঠল ‘বাংলা যোগ’।গত ৮ সেপ্টেম্বর ওড়িশা বন দফতরের কর্মীরা উদয়পুর-তালসারির জঙ্গলে পাঁচটি ওরাংওটাং শাবককে খেলা করতে দেখেন। যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয় তিন থেকে চার কেজি ওজনের ওই পাঁচটি শাবক। বন দফতর সূত্রে খবর, এদের মধ্যে তিনটি পুরুষ ও দুটি মেয়ে শাবক রয়েছে, যাদের বয়স আনুমানিক ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। ঘটনার তদন্তে নেমে চন্দনেশ্বর ও উদয়পুর থেকে দিঘামুখী প্রধান সড়কের অন্তত ৪৬টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেখানে একটি সন্দেহজনক এসইউভি (SUV) গাড়ির যাতায়াত নজর কাড়ে তদন্তকারীদের। এর পরেই দিঘায় একটি নির্দিষ্ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় তিন অভিযুক্তকে। উদ্ধার হওয়া শাবকগুলিকে পাচারের উদ্দেশ্যে দিঘা সীমান্ত দিয়ে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক ছিল কি না, তা আটক ব্যক্তিদের জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা (IUCN)-র বিপন্ন প্রজাতির লাল তালিকাভুক্ত এই ওরাংওটাং মূলত তিনটি প্রজাতিতে বিভক্ত। বোর্নিয়ান, সুমাত্রান এবং টাপানুলি। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপের গভীর ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্যের উঁচু গাছই এদের প্রাকৃতিক বাসস্থান। অত্যন্ত ধীরস্থির, একা থাকতে পছন্দ করা এবং বুদ্ধিমত্তায় অনন্য এই প্রাণীর আন্তর্জাতিক কালোবাজারে কোটি কোটি টাকার পোষ্য-চাহিদা রয়েছে। সেই বিপুল টাকার লোভেই আন্তর্জাতিক চোরাচালানকারীরা মা-ওরাংওটাংদের মেরে এই দুগ্ধপোষ্য শাবকগুলিকে আন্তর্জাতিক জলপথ বা সীমান্ত সীমান্ত পার করে ভারতে ঢুকিয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা।বর্তমানে পাঁচটি উদ্ধার হওয়া শাবককেই ভুবনেশ্বরের বিখ্যাত নন্দনকানন চিড়িয়াখানার বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চলছে চব্বিশ ঘণ্টার কড়া পর্যবেক্ষণ। মা-হারা অতিক্ষুদ্র এই প্রজাতিটি যাতে মানসিক চাপমুক্ত থাকে, তার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ঘর। শারীরিক মেজাজ শান্ত রাখতে খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে সুজি ও সেদ্ধ আপেল। এমনকি মেজাজ শান্ত ও মানসিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ওই বিশেষ ঘরে দিনরাত বাজানো হচ্ছে মৃদু ধ্রুপদী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। ওড়িশা এসটিএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, দিঘায় ধৃত ৩ জনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের কী সরাসরি লিংক রয়েছে, তা খুব দ্রুতই প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হবে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত