ধুলিয়ান: মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে গেস্ট হাউসের ঘরে আচমকা আগুন লেগে মারাত্মক ভাবে অগ্নিদগ্ধ হলেন সাগরদিঘির তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস। শনিবারের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিধায়ককে কি পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে নাকি এটি নিছক দুর্ঘটনা—তা নিয়ে যখন নানা জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য সামনে আনলেন বিধায়কের মেজো ভাই মিল্টন বিশ্বাস। শর্ট সার্কিটের ফলেই এই অগ্নিকাণ্ড বলে দাবি করেছেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টার কিছু পরেই ধুলিয়ানের নিজস্ব গেস্ট হাউসে দুর্ঘটনাটি ঘটে। মিল্টন জানান, দোতলার ঘরে বিধায়ক ঘুমাচ্ছিলেন। সেই সময় ইনডোর এসি ইউনিটে হঠাৎ মারাত্মক শর্ট সার্কিট থেকে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে বাইরন নিজেই তা নেভানোর চেষ্টা করেন। আর তখনই আগুনের তীব্র আঁচে ঝলসে যান তিনি। জখম অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর দুটি পায়ের হাঁটুর নীচের অংশ এবং হাতের কব্জি দগ্ধ হলেও বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁকে দ্রুত কলকাতায় স্থানান্তরিত করার ভাবনাও রয়েছে পরিবারের।
প্রথমে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষমেশ বাইরনকে নিজের নার্সিংহোমের আইসিইউ-তেই চিকিৎসকদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে প্রথম দিকে চক্রান্ত ও পারিবারিক অশান্তির জল্পনা ছড়ালেও ভাইয়ের বক্তব্যে পরিস্থিতি অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। তবে পুলিশ ও দমকল জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ও আগুনের আসল কারণ খতিয়ে দেখতে এখনও তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।
সাগরদিঘির জনপ্রিয় বিধায়কের জখম হওয়ার খবর পৌঁছতেই ধুলিয়ান ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে। গেস্ট হাউসের সামনে ভিড় জমান বহু অনুগামী ও স্থানীয় বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রীর তরফ থেকেও বিধায়কের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। সাগরদিঘিতে বিশাল জয়ের পর রাজনীতির ময়দানে নিজের অবস্থান বজায় রাখা বাইরনের আচমকা এই অগ্নিকাণ্ডে জখম হওয়ার ঘটনায় জেলা রাজনীতিতেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন