তেল আভিভ: ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের রক্তাক্ত হাতাহাতি এবং বিমান ফেলে দেওয়ার ভয়ঙ্কর চক্রান্তের সাক্ষী থাকল বিশ্ব। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ঘটনা। মাঝআকাশে দুই পাইলটের বচসা গড়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। অভিযোগ, ককপিটে এক পাইলট অন্য পাইলটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে কোপ মারেন এবং বিমানটিকে হাইজ্যাক কিংবা ক্র্যাশ করিয়ে ৯/১১-র কায়দায় আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালান। মাত্র দুই মিনিটে বিমানটি একধাক্কায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে এলে ১৮০ জন যাত্রীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সূত্রের খবর, বুধবার সকালে ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আচমকা বিপদসংকেত পাঠাতে শুরু করে। প্রথমে জরুরি অবস্থার '৭৭০০' স্কোয়াউক কোড এবং ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড পরেই বিমান হাইজ্যাকের নির্দেশক '৭৫০০ ট্রান্সপন্ডার কোড' পাঠানো হয়। এর পরই বিমানটি নাটকীয়ভাবে নিজের গতিপথ বদলে সৌদি আরবের অভিমুখে উড়তে শুরু করে। সংবাদসংস্থা এপি ও 'দ্য টাইমস অফ ইসরায়েল'-এর দাবি, ককপিটের মধ্যে হঠাৎই দুই পাইলট তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে এক পাইলট পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে অন্য পাইলটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন।
ককপিটের রক্তাক্ত তাণ্ডব ও বিমানের আচমকা নিয়ন্ত্রণে আনা অনিশ্চয়তা দেখে কয়েকজন সাহসী বিমানকর্মী ও যাত্রী প্রাণপণ ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণকারী পাইলটকে কাবু করেন। একটি সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত পাইলট আত্মহত্যা করে পুরো বিমানটিকে মাটি বা সমুদ্রে আছড়ে ফেলার ছক কষেছিলেন। ইজরায়েলি এক উচ্চপদস্থ কর্তার মতে, আক্রমণকারী কি বিমানটি হাইজ্যাক করে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ৯/১১-এর মতো আঘাত হানতে চেয়েছিলেন, নাকি এটি নিছকই আত্মঘাতী প্রচেষ্টা— তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তীতে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে বিমানটি অত্যন্ত অলৌকিকভাবে নিরাপদ জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রী এবং বিমানকর্মী প্রত্যেকেই আশ্চর্যজনকভাবে সুরক্ষিত রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় এমন শিউরে ওঠা ঘটনায় বিশ্বজুড়ে অসামরিক বিমান পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন