Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Lionel Messi Retirement: ‘লাল-হলুদ আজ সব কার্ড তোমার!’, শেষ দিনেও আর্জেন্টিনার ফুটবল জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মেসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬
Lionel Messi Retirement: ‘লাল-হলুদ আজ সব কার্ড তোমার!’, শেষ দিনেও আর্জেন্টিনার ফুটবল জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মেসি
আলবিদা মেসি! শূ্ন্য ভালবাসার রাজপ্রাসাদ। ছবি: ফেসবুক

বুয়েনস আইয়ার্স: দুই পৃথিবী!

এক পৃথিবীতে মেয়ে আসবে বলে আয়োজন। আর এক পৃথিবীতেও আয়োজন। তবে ছেলের অবসরের। সেই ছেলে গত একুশ বছর দেশের ফুটবল সংসারের জোয়াল নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাউকে বুঝতে দেননি, অভাব-অনটনের কথা। কাউকে বুঝতে দেননি, এক একটা বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা। তবুও তিনি লড়েছেন। লড়াইয়ে থেকেছেন। হেরেছেন এবং জিতেছেন। ভাবতে অবাক লাগে না, বুধবার ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ছটার পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে প্রাক্তন একটা নাম লিওনেল আন্দ্রেয়াস মেসি! 

দিনটা আসবে, সবাই জানতেন। কিন্তু কেউই হয়ত, মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। স্বয়ং লিওনেল আন্দ্রেস মেসিও কি তৈরি ছিলেন? জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও যে ছেলেটাকে আক্ষরিক অর্থে জোয়াল টেনে জিতিয়ে দিয়ে যেতে হবে, তা কে জানত! 

যে কাঁধে গত দু’দশক ধরে আর্জেন্তিনীয় ফুটবলের সমস্ত স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর আবেগ ভর করে দাঁড়িয়ে ছিল, বিদায়বেলায় বুয়েনস আইয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে সেই কাঁধেই আরও একবার পুর দায়িত্ব তুলে নিতে হল। বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে, কেরিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়েও তিনি সেই একই ‘মসিহা’। দুটি চোখধাঁধানো অ্যাসিস্ট আর নিখুঁত পেনাল্টিতে দলকে ৩-০ ব্যবধানে বেনিনের বিরুদ্ধে জয় এনে দিয়ে নীল-সাদা জার্সিটা তুলে রাখলেন মহাতারকা।

৮৫ হাজার দর্শকের গর্জন। আলোর রোশনাই আর আতশবাজির ধুমধামের মাঝে বুয়েনস আইয়ার্সের আকাশ তখন আবেগ আর কান্নায় ভারী। গ্যালারিতে ভেসে উঠছে ‘গ্রাসিয়াস ১০’ লেখা সুবিশাল ব্যানার। মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো আর তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও, সিরোকে সামনে রেখে জাতীয় সঙ্গীতের সময় নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অধিনায়কও। 

শুধু পাশে ছিলেন না বাবা জর্জে, যাঁর প্রয়াণের শূন্যতা বুকে নিয়েই আজ মাঠে নেমেছিলেন তিনি। নিকো পাজ বা জুলিয়ান আলভারেজদের নতুন প্রজন্ম হয়ত উঠে আসছে, কিন্তু বিদায়লগ্নেও স্পষ্ট হয়ে গেল, মেসি আজও সেই মেসিই, যাঁকে ছাড়া এই দলের জয়ের ইঞ্জিন সচল হওয়া কঠিন।

প্রথমার্ধে গোলহীন অচলাবস্থার পর দ্বিতীয়ার্ধে আবার সেই চেনা জাদুদণ্ড হাতে নিলেন মেসি। ৪৮ মিনিটে তাঁর মাপা কর্নার থেকেই ডেডলক ভাঙেন বিদায়ী ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি। এর কিছুক্ষণ পর বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মেসির সাজিয়ে দেওয়া পাসে নিকো পাজের বাঁ পায়ের সেই বাঁক খাওয়ানো গোল। যাতে প্রতিফলিত হচ্ছিল স্বয়ং মেসিরই তরুণ বয়সের ছায়া। আর ৭১ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্তিনার জার্সিতে ১২৬ তম গোলটি সম্পন্ন করলেন ফুটবলের ঈশ্বর।

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই পুরো স্টেডিয়াম জয়ের আনন্দে নয়, এক অলৌকিক লোকগাথার সমাপনীতে স্তব্ধ হয়ে গেল। মাইক্রোফোন হাতে যখন মেসি দাঁড়ালেন, তখন তাঁর কণ্ঠে কেবল বিদায়ের কাতরতা নয়, ছিল আগামী দিনের জন্য কড়া সতর্কবারাতাও। 

২০২৬ বিশ্বকাপের বিতর্ক আর সমালোচনা উসকে দিয়ে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘এই জাতীয় দলের সাফল্য অনেকে দেখতে চায় না। তাঁদের বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হতে হবে। যদি আমরা দল হিসেবে শক্ত না থাকি, তবে কিছুই জেতা সম্ভব নয়।’’ 

বিশ্বকাপের সময় ইংল্যান্ড ম্যাচের মারাত্মক চাপ এবং পরবর্তী নানা ‘মনগড়া কাহিনি’র কথা টেনে এনে তিনি মনে করিয়ে দেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা খাদের কিনারায় পৌঁছেও তাঁরা বিশ্বজয় করেছিলেন।

‘‘আজ সত্যি আমার মাঠ ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। আজীবন এই জার্সি গায়ে খেলে যেতে চাই, কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন,’’ বলতে বলতে গলা বুজে আসে মহাতারকার। 

তবে মাঠ ছাড়লেও আর্জেন্তিনীয় ফুটবলের সংসারকে তিনি অনাথ করে যাচ্ছেন না। আশ্বাস দিয়ে গেছেন, ডাগআউটের বাইরে থেকেই নতুনদের অভিভাবক হয়ে থাকবেন আজীবন। যে ছেলেটা ২১ বছর ধরে দেশের জোয়াল টেনে নিয়ে গিয়েছে, বিদায়বেলায় সে শুধু ট্রফি দিয়ে গেল না, দিয়ে গেল একতার মহামন্ত্রও। বিদায় মেসি, চিরন্তন ১০। আজ তোমার কাছেই থেকে গেল লাল আর হলুদ কার্ড। 

বিষয় : #LionelMessi #MessiRetirement #Argentina #HiddenStoriesNews #GraciasMessi #Messi10 #EstadioMonumental #GraciasLeo #Albiceleste #MessiFarewell

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


Lionel Messi Retirement: ‘লাল-হলুদ আজ সব কার্ড তোমার!’, শেষ দিনেও আর্জেন্টিনার ফুটবল জোয়াল কাঁধে নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মেসি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
বুয়েনস আইয়ার্স: দুই পৃথিবী!এক পৃথিবীতে মেয়ে আসবে বলে আয়োজন। আর এক পৃথিবীতেও আয়োজন। তবে ছেলের অবসরের। সেই ছেলে গত একুশ বছর দেশের ফুটবল সংসারের জোয়াল নিজের কাঁধে বয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাউকে বুঝতে দেননি, অভাব-অনটনের কথা। কাউকে বুঝতে দেননি, এক একটা বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা। তবুও তিনি লড়েছেন। লড়াইয়ে থেকেছেন। হেরেছেন এবং জিতেছেন। ভাবতে অবাক লাগে না, বুধবার ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ছটার পর থেকে বিশ্ব ফুটবলে প্রাক্তন একটা নাম লিওনেল আন্দ্রেয়াস মেসি! দিনটা আসবে, সবাই জানতেন। কিন্তু কেউই হয়ত, মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। স্বয়ং লিওনেল আন্দ্রেস মেসিও কি তৈরি ছিলেন? জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও যে ছেলেটাকে আক্ষরিক অর্থে জোয়াল টেনে জিতিয়ে দিয়ে যেতে হবে, তা কে জানত! যে কাঁধে গত দু’দশক ধরে আর্জেন্তিনীয় ফুটবলের সমস্ত স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর আবেগ ভর করে দাঁড়িয়ে ছিল, বিদায়বেলায় বুয়েনস আইয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে সেই কাঁধেই আরও একবার পুর দায়িত্ব তুলে নিতে হল। বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে, কেরিয়ারের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়েও তিনি সেই একই ‘মসিহা’। দুটি চোখধাঁধানো অ্যাসিস্ট আর নিখুঁত পেনাল্টিতে দলকে ৩-০ ব্যবধানে বেনিনের বিরুদ্ধে জয় এনে দিয়ে নীল-সাদা জার্সিটা তুলে রাখলেন মহাতারকা।৮৫ হাজার দর্শকের গর্জন। আলোর রোশনাই আর আতশবাজির ধুমধামের মাঝে বুয়েনস আইয়ার্সের আকাশ তখন আবেগ আর কান্নায় ভারী। গ্যালারিতে ভেসে উঠছে ‘গ্রাসিয়াস ১০’ লেখা সুবিশাল ব্যানার। মা সেলিয়া, স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো আর তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও, সিরোকে সামনে রেখে জাতীয় সঙ্গীতের সময় নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অধিনায়কও। শুধু পাশে ছিলেন না বাবা জর্জে, যাঁর প্রয়াণের শূন্যতা বুকে নিয়েই আজ মাঠে নেমেছিলেন তিনি। নিকো পাজ বা জুলিয়ান আলভারেজদের নতুন প্রজন্ম হয়ত উঠে আসছে, কিন্তু বিদায়লগ্নেও স্পষ্ট হয়ে গেল, মেসি আজও সেই মেসিই, যাঁকে ছাড়া এই দলের জয়ের ইঞ্জিন সচল হওয়া কঠিন।প্রথমার্ধে গোলহীন অচলাবস্থার পর দ্বিতীয়ার্ধে আবার সেই চেনা জাদুদণ্ড হাতে নিলেন মেসি। ৪৮ মিনিটে তাঁর মাপা কর্নার থেকেই ডেডলক ভাঙেন বিদায়ী ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডি। এর কিছুক্ষণ পর বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মেসির সাজিয়ে দেওয়া পাসে নিকো পাজের বাঁ পায়ের সেই বাঁক খাওয়ানো গোল। যাতে প্রতিফলিত হচ্ছিল স্বয়ং মেসিরই তরুণ বয়সের ছায়া। আর ৭১ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্তিনার জার্সিতে ১২৬ তম গোলটি সম্পন্ন করলেন ফুটবলের ঈশ্বর।ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই পুরো স্টেডিয়াম জয়ের আনন্দে নয়, এক অলৌকিক লোকগাথার সমাপনীতে স্তব্ধ হয়ে গেল। মাইক্রোফোন হাতে যখন মেসি দাঁড়ালেন, তখন তাঁর কণ্ঠে কেবল বিদায়ের কাতরতা নয়, ছিল আগামী দিনের জন্য কড়া সতর্কবারাতাও। ২০২৬ বিশ্বকাপের বিতর্ক আর সমালোচনা উসকে দিয়ে মেসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘এই জাতীয় দলের সাফল্য অনেকে দেখতে চায় না। তাঁদের বিরুদ্ধে আমাদের একজোট হতে হবে। যদি আমরা দল হিসেবে শক্ত না থাকি, তবে কিছুই জেতা সম্ভব নয়।’’ বিশ্বকাপের সময় ইংল্যান্ড ম্যাচের মারাত্মক চাপ এবং পরবর্তী নানা ‘মনগড়া কাহিনি’র কথা টেনে এনে তিনি মনে করিয়ে দেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে কতটা খাদের কিনারায় পৌঁছেও তাঁরা বিশ্বজয় করেছিলেন।‘‘আজ সত্যি আমার মাঠ ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। আজীবন এই জার্সি গায়ে খেলে যেতে চাই, কিন্তু সময় তো থেমে থাকে না। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন,’’ বলতে বলতে গলা বুজে আসে মহাতারকার। তবে মাঠ ছাড়লেও আর্জেন্তিনীয় ফুটবলের সংসারকে তিনি অনাথ করে যাচ্ছেন না। আশ্বাস দিয়ে গেছেন, ডাগআউটের বাইরে থেকেই নতুনদের অভিভাবক হয়ে থাকবেন আজীবন। যে ছেলেটা ২১ বছর ধরে দেশের জোয়াল টেনে নিয়ে গিয়েছে, বিদায়বেলায় সে শুধু ট্রফি দিয়ে গেল না, দিয়ে গেল একতার মহামন্ত্রও। বিদায় মেসি, চিরন্তন ১০। আজ তোমার কাছেই থেকে গেল লাল আর হলুদ কার্ড। 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত