Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Krishnagar Rajbari: রাজার প্রয়াণের শোক! কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা, বড় সিদ্ধান্ত রাজবধূর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
Krishnagar Rajbari: রাজার প্রয়াণের শোক! কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা, বড় সিদ্ধান্ত রাজবধূর
কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি। ফাইল ছবি

কৃষ্ণনগর: স্বামী তথা কৃষ্ণনগরের মহারাজা সৌমীশচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর প্রথম দুর্গাপুজো। আর এই শোকের ছায়াতেই শতাব্দীপ্রাচীন কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজোয় আসছে বড়সড় বদল। জৌলুস কমার পাশাপাশি এ বছর বিজয়া দশমীতে রাজবাড়ির অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় ‘সিঁদুর খেলা’ প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে। রাজবধূ অমৃতা রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে আর এই সিঁদুর খেলায় অংশ নেবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলেই বংশানুক্রমে চলে আসা রাজবাড়ির এই প্রাচীন প্রথা আপাতত বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের মার্চ মাসেই প্রয়াত হন কৃষ্ণনগরের রাজা সৌমীশচন্দ্র রায়। তাঁর তিরোধানের পর রাজপরিবারে এখন শোকের আবহ। সেই কারণেই এ বছরের দুর্গাপুজোয় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। অমৃতা রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ বছর তাঁরা পরিবারের কেউ গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন না এবং পুজোও তাঁদের নামে সংকল্প করা হবে না। পরিবর্তে পরিবারের প্রবীণ সদস্য ‘ঠাকুমা’ পুজোর সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পাশাপাশি, শোকের পরিবেশ বজায় রাখতে এ বছর প্রতিমার আকার কিছুটা ছোট করা হয়েছে, জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা কাটছাঁট করা হয়েছে এবং বন্ধ রাখা হয়েছে সানাইয়ের সুর। তবে এই সমস্ত পরিবর্তনের মধ্যে সবথেকে বড় চমক ও মনখারাপ করা খবরটি হলো সিঁদুর খেলা বন্ধ থাকা। অমৃতা জানিয়েছেন, তিনি নিজে এতে অংশ নিচ্ছেন না। তবে ভবিষ্যতে তাঁর পুত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং পুত্রবধূ বা ছেলে নিজ ইচ্ছায় এই রীতি ফের চালু করতে চাইলে তা করতে পারেন, তাদের ওপর কোনো জোর করা হবে না। দশমীর দিন পুরোহিত মশাই নিজে দেবীকে বরণ করবেন।

পুজোর জৌলুস ও বেশ কিছু প্রথা কমলেও প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মকানুন পুরোপুরি বজায় রেখেই পুজো চলছে। রবিবার প্রতিপদ থেকেই রাজবাড়িতে শুরু হয়ে গেছে হোম ও বলিদান সংক্রান্ত আচার। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর সমস্ত রীতিনীতি নির্দিষ্ট মেনেই পালিত হবে। মায়ের ভোগে কোনো রকম হেরফের করা হয়নি; আগের মতোই সাত রকম ভাজা ও অন্নভোগ নিবেদন করা হবে। এছাড়া নবমীর দিন পুরনো ঐতিহ্য মেনে দেবীকে মাছের মুখ দেখানো এবং কুমড়ো বলিসহ রাজবাড়ির নির্দিষ্ট বলির আচারও সম্পন্ন হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, শোকের মাতম থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য রাজবাড়ির কপাট বন্ধ হচ্ছে না। দর্শনার্থীরা আগের মতোই পুজোয় অংশ নিতে পারবেন। জেলাবাসীর উদ্দেশে রাজবধূর বার্তা, সবাই যেন সুস্থ ও ভালো থাকেন এবং রাজবাড়িকে নিজেদের বাড়ি মনে করেই যেন উৎসবে সামিল হন।

বিষয় : NadiaNews HiddenStoriesNews durgapuja2026 BreakingNewsBangla SindoorKhela AmritaRoy BengalHeritage

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


Krishnagar Rajbari: রাজার প্রয়াণের শোক! কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা, বড় সিদ্ধান্ত রাজবধূর

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কৃষ্ণনগর: স্বামী তথা কৃষ্ণনগরের মহারাজা সৌমীশচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর প্রথম দুর্গাপুজো। আর এই শোকের ছায়াতেই শতাব্দীপ্রাচীন কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির পুজোয় আসছে বড়সড় বদল। জৌলুস কমার পাশাপাশি এ বছর বিজয়া দশমীতে রাজবাড়ির অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় ‘সিঁদুর খেলা’ প্রথা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকছে। রাজবধূ অমৃতা রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি নিজে আর এই সিঁদুর খেলায় অংশ নেবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলেই বংশানুক্রমে চলে আসা রাজবাড়ির এই প্রাচীন প্রথা আপাতত বন্ধের মুখে দাঁড়িয়েছে।চলতি বছরের মার্চ মাসেই প্রয়াত হন কৃষ্ণনগরের রাজা সৌমীশচন্দ্র রায়। তাঁর তিরোধানের পর রাজপরিবারে এখন শোকের আবহ। সেই কারণেই এ বছরের দুর্গাপুজোয় একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। অমৃতা রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ বছর তাঁরা পরিবারের কেউ গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন না এবং পুজোও তাঁদের নামে সংকল্প করা হবে না। পরিবর্তে পরিবারের প্রবীণ সদস্য ‘ঠাকুমা’ পুজোর সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পাশাপাশি, শোকের পরিবেশ বজায় রাখতে এ বছর প্রতিমার আকার কিছুটা ছোট করা হয়েছে, জাঁকজমকপূর্ণ আলোকসজ্জা কাটছাঁট করা হয়েছে এবং বন্ধ রাখা হয়েছে সানাইয়ের সুর। তবে এই সমস্ত পরিবর্তনের মধ্যে সবথেকে বড় চমক ও মনখারাপ করা খবরটি হলো সিঁদুর খেলা বন্ধ থাকা। অমৃতা জানিয়েছেন, তিনি নিজে এতে অংশ নিচ্ছেন না। তবে ভবিষ্যতে তাঁর পুত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং পুত্রবধূ বা ছেলে নিজ ইচ্ছায় এই রীতি ফের চালু করতে চাইলে তা করতে পারেন, তাদের ওপর কোনো জোর করা হবে না। দশমীর দিন পুরোহিত মশাই নিজে দেবীকে বরণ করবেন।পুজোর জৌলুস ও বেশ কিছু প্রথা কমলেও প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠান ও নিয়মকানুন পুরোপুরি বজায় রেখেই পুজো চলছে। রবিবার প্রতিপদ থেকেই রাজবাড়িতে শুরু হয়ে গেছে হোম ও বলিদান সংক্রান্ত আচার। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর সমস্ত রীতিনীতি নির্দিষ্ট মেনেই পালিত হবে। মায়ের ভোগে কোনো রকম হেরফের করা হয়নি; আগের মতোই সাত রকম ভাজা ও অন্নভোগ নিবেদন করা হবে। এছাড়া নবমীর দিন পুরনো ঐতিহ্য মেনে দেবীকে মাছের মুখ দেখানো এবং কুমড়ো বলিসহ রাজবাড়ির নির্দিষ্ট বলির আচারও সম্পন্ন হবে।সবচেয়ে বড় কথা, শোকের মাতম থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য রাজবাড়ির কপাট বন্ধ হচ্ছে না। দর্শনার্থীরা আগের মতোই পুজোয় অংশ নিতে পারবেন। জেলাবাসীর উদ্দেশে রাজবধূর বার্তা, সবাই যেন সুস্থ ও ভালো থাকেন এবং রাজবাড়িকে নিজেদের বাড়ি মনে করেই যেন উৎসবে সামিল হন।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত