গ্যাংটক: কিছুতেই কাটছে না দুর্যোগের কালো মেঘ, ফের প্রকৃতির ভয়াল তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেল সিকিম। উত্তর সিকিমে চ্যাকুং ও তিস্তা নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে হড়পা বানের আশঙ্কার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পশ্চিম সিকিমে আছড়ে পড়ল তীব্র বিপর্যয়। প্রবল বৃষ্টির মাঝে রিম্বি-ইউকসুম প্রধান সড়কে হুড়মুড়িয়ে নেমে এসেছে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মাটি, পাথর এবং তীব্র কাদার স্রোতে ঢেকে গিয়ে সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে রিম্বির সঙ্গে ইউকসুম ও খেচুপরির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সরাসরি যোগাযোগ। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা এই ধ্বংসস্তূপে রাস্তার বিস্তীর্ণ অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ায় পায়ে হেঁটে চলার পথটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। উৎসবের মুখে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি সিকিমের এই উদ্বেগজনক ছবি ফের ভ্রমণপিপাসুদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ইউকসুম-তাশিডিং নির্বাচনী এলাকার রিম্বি গ্রামের কাছে এই বিধ্বংসী ধস নামে। একটানা ভারী বর্ষণের জেরে ধসে যাওয়া পাহাড়ের ঢাল এখনও রীতিমতো বিপজ্জনক ও অস্থির অবস্থায় রয়েছে। ওপর থেকে ক্রমাগত গড়িয়ে পড়ছে পাথর আর কাদাজল। রাস্তার ধারের একাধিক বাড়িঘর এখন চরম বিপদের মুখে, যে কোনো মুহূর্তে আরও বড়সড় বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার ভয়ে ঘরছাড়া হওয়ার উপক্রম স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্পষ্ট অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই রুটে বিপর্যয় নামে, কিন্তু কেবল রাস্তা পরিষ্কার করে দিলে স্থায়ী স্বস্তি মিলবে না; পাহাড়ের ঢাল শক্তপোক্ত করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পরিকাঠামো। সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু পর্যটকও।
অন্যদিকে, রবিবার সকালে উত্তর সিকিমের চ্যাকুং চু-তে ধস নেমে তিস্তার গতিপথ সাময়িক রুদ্ধ হলেও পরে তা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে ঝুঁকি যে এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তা মানছে প্রশাসনও। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চুংথাং-এর মহকুমা শাসক অরুণ ছেত্রী এবং জিআরইএফ-এর শীর্ষ সেনাকর্তাদের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছে। সেখানে নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনা এবং ‘টুং-পারটেম’ সড়ক তৈরির কাজ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রকৃতির অব্যাহত খামখেয়ালিপনায় গোটা সিকিম জুড়েই এখন থমথমে আতঙ্ক।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন