হাওড়া: উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসতেই রাজ্য জুড়ে যখন কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে সমস্ত পথঘাট, ঠিক তখনই হাওড়া স্টেশনে মিলল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকার সন্ধান। নিউ কমপ্লেক্স থেকে ব্যাগে বান্ডিল বান্ডিল নোট-সহ পাকড়াও করা হলো এক সন্দেহভাজন যাত্রীকে।
রেল পুলিশ (আরপিএফ) সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা। এই বিপুল টাকার উৎস সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথিপত্র দেখাতে না পারায় উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা এবং ধৃত ব্যক্তিকে আয়কর দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাতে। হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্সে রুটিন টহল দিচ্ছিলেন আরপিএফের গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। সেই সময়েই প্ল্যাটফর্মে এক যাত্রীর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। হাতব্যাগ ও ভারী লগেজ নিয়ে তাঁর ঘোরাঘুরির ভঙ্গিতে অসঙ্গতি নজর এড়ায়নি কর্তাদের। তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন গোয়েন্দারা। তবে তাঁর কথা ও জবাবে একাধিক অসংলগ্নতা ধরা পড়ে।
এর পরই সুজিতের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও লগেজে কড়া তল্লাশি চালান আরপিএফ জওয়ানেরা। ব্যাগ খুলতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় কর্তাদের। থরে থরে সাজানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল! ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৬৭ লক্ষ টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করে আরপিএফ।
ধৃত ব্যক্তির নাম সুজিত কালে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক জেরায় সুজিত জানান, তিনি মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের বাসিন্দা। বিহারের গয়া টাউনশিপ এলাকায় তাঁর একটি দোকান রয়েছে। মুম্বই মেল চেপে রবিবার রাতে তিনি হাওড়া পৌঁছান।
সুজিতের দাবি, কলকাতার বড়বাজার থেকে সোনা ও রুপোর অলংকার কেনার লক্ষ্যেই তিনি এই বিপুল পরিমাণ টাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এত মোটা অঙ্কের নগদের স্বপক্ষে কোন আয়ের বা লেনদেনের বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।
টাকার উৎসব নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় তড়িঘড়ি আয়কর দপ্তরকে খবর দেয় আরপিএফ। আটক সুজিত ও উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ আয়কর কর্তাদের হাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের উপনির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই স্টেশন থেকে বিপুল অর্থ উদ্ধার নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। কালো টাকা নাকি হাওলা কারবার, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন আয়কর আধিকারিকেরা।
বিষয় : HiddenStoriesNews

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন