নতুন জামা রেডি, প্যান্ডেল হপিংয়ের প্ল্যানও তৈরি! কিন্তু সারারাত ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যদি মাঝপথেই পায়ের ব্যাথায় বসে পড়তে হয়? পুজোর সময় একদিনে ১০-১২ হাজার স্টেপ হাঁটা এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। কিন্তু সারা বছর জুতোর মধ্যে আরাম করে থাকা পা কি হঠাৎ এতটা হাঁটার ধকল নিতে পারবে? এখন থেকেই একটু যত্ন না নিলে ষষ্ঠীর রাতেই পায়ে ফোসকা, গোড়ালি ফাটা আর ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হতে পারে। তাই পুজোর এখনও হাতে কয়েকদিন থাকতেই পায়ের যত্ন নেওয়া শুরু করে দিন। রইল ৫ টি সহজ টিপস।
প্রথমেই আসি ফুট সোকিংয়ে। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হালকা গরম জলে প্রায় ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এতে সারাদিনের হাঁটাহাঁটির পর পায়ের ক্লান্তি কিছুটা কমতে পারে।পা আরাম পায়। তবে জল যেন খুব গরম না হয়। সপ্তাহে এক-দুদিন ফুট সোক করার পর পা ভালো করে শুকিয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
দ্বিতীয়ত, পা ফাটা থাকলে এখন থেকেই তার যত্ন নিন। সপ্তাহে দু’বার হালকা ফুট স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। তবে খুব জোরে ঘষাঘষি করবেন না। গোড়ালি বেশি শুকনো বা ফাটা হলে রাতে ফুট ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমোতে পারেন। পুজোর আগে পা নরম রাখতে এই অভ্যাসটা বেশ কাজে আসবে।
তৃতীয় বিষয় হল নতুন জুতো। এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুজোর দিন নতুন জুতো প্রথমবার পরে বেরিয়ে পড়বেন না। এখন থেকেই বাড়িতে অল্প অল্প সময় পরে হাঁটুন। তাহলে জুতোটার সঙ্গে পা কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। আর সারারাত প্যান্ডেল হপিংয়ের প্ল্যান থাকলে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না, জুতোটাও আরামদায়ক হওয়া দরকার। স্নিকার্স বা ভালো সাপোর্ট দেওয়া জুতো অনেকক্ষণ হাঁটার ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে। তবে যেকোনো ছোটখাটো সমস্যা এড়াতে সঙ্গে ব্যান্ডএড রাখা জরুরি।
চতুর্থত, নখ আর ময়েশ্চারাইজিংয়ের দিকেও নজর দিন। পায়ের নখ খুব বড় হয়ে থাকলে জুতোর ভিতরে চাপ লেগে অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে। তাই পুজোর কয়েকদিন আগে নখ কেটে ফাইল করে নিন। আর প্রতিদিন রাতে গোড়ালি-সহ পুরো পায়ে ময়েশ্চারাইজার বা ফুট ক্রিম লাগানোর অভ্যাস করুন।
আর পঞ্চমত, এখন থেকেই পায়ের কিছু হালকা ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। পায়ের আঙুল নাড়ানো, গোড়ালি ঘোরানো, কাফ মাসল স্ট্রেচ করা। এই ধরনের সহজ ব্যায়াম কয়েক মিনিট করলেই পা কিছুটা প্রস্তুত থাকবে। বিশেষ করে যারা সারাদিন খুব একটা হাঁটেন না, তাঁদের জন্য পুজোর আগে ধীরে ধীরে হাঁটার অভ্যাস বাড়ানোও ভালো।
কারণ পুজোর আনন্দে নতুন জামা, নতুন জুতো, প্যান্ডেল আর রাত জাগা, সবই থাকবে। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝখানে পায়ে ব্যথা নিয়ে বসে পড়তে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না! তাই পুজোর কয়েকদিন আগেই পায়ের যত্নটা শুরু করে দিন। তাহলে সারারাত ঠাকুর দেখার প্ল্যানেও কোনও চিন্তা থাকবে না।
বিষয় : lifestyle Health Tips Foot pain

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন