Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Nandigram By Poll 2026: কংগ্রেসি স্বামী জেলে! সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রামে প্রচারে স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Nandigram By Poll 2026: কংগ্রেসি স্বামী জেলে! সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রামে প্রচারে স্ত্রী
স্বামী মিলন প্রধানের হয়ে প্রচারে স্ত্রী অর্পিতা। নিজস্ব ছবি

কলকাতা ও নন্দীগ্রাম : আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। কিন্তু ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে ১৯ বছরের পুরনো জোড়া খুনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। 

সশরীরে নির্বাচনী ময়দানে নামার উপায় নেই। এমন জটিল ও নাটকীয় পরিস্থিতিতে স্বামীর হয়ে ভোটের ব্যাটন তুলে নিলেন অর্পিতা প্রধান। জেলে থাকা স্বামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এবং শাসকদলের ‘ষড়যন্ত্রের’ জবাব দিতে সোশাল মিডিয়াকে মূল হাতিয়ার করে এবার ব্যাকফুটে থাকা কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে ঝড় তুললেন প্রার্থীর অর্পিতা।

ইতিমধ্যেই এক আবেগঘন ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেছেন অর্পিতা। ভিডিয়োয় নিজেকে সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ভোটের মুখে এই গ্রেফতারির নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে। 

চোখের জলে অর্পিতার সোজা প্রশ্ন, “কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ার পরদিনই কেন ১৯ বছরের পুরনো মামলায় ওঁর হাতে হাতকড়া পরাল পুলিশ? তিন মাস আগেও মিলন এলাকায় ছিল, নিয়মিত ভোট দিত, পুজোর সময় সক্রিয় থাকত। তখন তো কেউ ধরেনি! আজ বিরোধীদের প্রার্থী দাঁড়াতেই কেন ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের রাজনৈতিক মামলা টেনে আনা হলো?” 

তাঁর গুরুতর অভিযোগ, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের মামলায় অনেকেই এখন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হয়ে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ মিলনকে জোর করে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। ইভিএমে ২ নম্বরে থাকা কংগ্রেস প্রার্থীকে জয়ী করে মানুষ মিথ্যার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েই এর জবাব দেবে বলে দাবি অর্পিতার।

ঘটনাচক্রে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস) মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর হঠাৎই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়।

তৃণমূলনেত্রী মমতা ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তড়িঘড়ি পুলিশ অভিযানে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।  শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, ২০০৭ সালে জমি আন্দোলন পর্বে মিলনের বিরুদ্ধে মোট চারটি খুনের অভিযোগ ছিল, যার দু’টিতে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা ঝুলছিল। রবিবার আবার নতুন করে আরও একটি মামলা যোগ হওয়ায় বর্তমানে মিলনের ঘাড়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

গ্রেফতারির বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে রেহাই পেতে ইতিমধ্যই রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মিলন প্রধান। আজ বা আগামীকালই উচ্চ আদালতে এই জরুরি মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নিজে হলদিয়া আদালতে হাজির হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, মিলনের আইনজীবী তথা কংগ্রেস মুখপাত্র অজিতেশ পাণ্ডে জানান, প্রার্থীকে দ্রুত জেল থেকে বার করতে হাইকোর্টে সমস্ত আইনি লড়াই চালানো হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও জয়ী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপির তরফে শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করা হয়েছে। লড়াইয়ে রয়েছে বাম-আইএসএফ-সহ অন্য দলগুলিও। কিন্তু একদিকে প্রার্থীর জেলযাত্রা, অন্যদিকে তৃণমূলের সমর্থন এবং প্রার্থীর স্ত্রীর সোশাল মিডিয়া প্রোপাগান্ডায় এখন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনী রাজনীতি তুঙ্গে।

বিষয় : HiddenStoriesNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Nandigram By Poll 2026: কংগ্রেসি স্বামী জেলে! সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে নন্দীগ্রামে প্রচারে স্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা ও নন্দীগ্রাম : আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচন। কিন্তু ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে ১৯ বছরের পুরনো জোড়া খুনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। সশরীরে নির্বাচনী ময়দানে নামার উপায় নেই। এমন জটিল ও নাটকীয় পরিস্থিতিতে স্বামীর হয়ে ভোটের ব্যাটন তুলে নিলেন অর্পিতা প্রধান। জেলে থাকা স্বামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এবং শাসকদলের ‘ষড়যন্ত্রের’ জবাব দিতে সোশাল মিডিয়াকে মূল হাতিয়ার করে এবার ব্যাকফুটে থাকা কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে ঝড় তুললেন প্রার্থীর অর্পিতা।ইতিমধ্যেই এক আবেগঘন ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেছেন অর্পিতা। ভিডিয়োয় নিজেকে সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ভোটের মুখে এই গ্রেফতারির নেপথ্যে থাকা রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে। চোখের জলে অর্পিতার সোজা প্রশ্ন, “কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ার পরদিনই কেন ১৯ বছরের পুরনো মামলায় ওঁর হাতে হাতকড়া পরাল পুলিশ? তিন মাস আগেও মিলন এলাকায় ছিল, নিয়মিত ভোট দিত, পুজোর সময় সক্রিয় থাকত। তখন তো কেউ ধরেনি! আজ বিরোধীদের প্রার্থী দাঁড়াতেই কেন ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের রাজনৈতিক মামলা টেনে আনা হলো?” তাঁর গুরুতর অভিযোগ, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের মামলায় অনেকেই এখন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হয়ে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ মিলনকে জোর করে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে। ইভিএমে ২ নম্বরে থাকা কংগ্রেস প্রার্থীকে জয়ী করে মানুষ মিথ্যার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েই এর জবাব দেবে বলে দাবি অর্পিতার।ঘটনাচক্রে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস) মনোনীত প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর হঠাৎই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। তৃণমূলনেত্রী মমতা ঘোষণা করেন, নন্দীগ্রামে তাঁর দল কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করবে। কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তড়িঘড়ি পুলিশ অভিযানে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়।  শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালত তাঁকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, ২০০৭ সালে জমি আন্দোলন পর্বে মিলনের বিরুদ্ধে মোট চারটি খুনের অভিযোগ ছিল, যার দু’টিতে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা ঝুলছিল। রবিবার আবার নতুন করে আরও একটি মামলা যোগ হওয়ায় বর্তমানে মিলনের ঘাড়ে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে।গ্রেফতারির বিরুদ্ধে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে রেহাই পেতে ইতিমধ্যই রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মিলন প্রধান। আজ বা আগামীকালই উচ্চ আদালতে এই জরুরি মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার নিজে হলদিয়া আদালতে হাজির হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, মিলনের আইনজীবী তথা কংগ্রেস মুখপাত্র অজিতেশ পাণ্ডে জানান, প্রার্থীকে দ্রুত জেল থেকে বার করতে হাইকোর্টে সমস্ত আইনি লড়াই চালানো হবে।প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও জয়ী হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। বিজেপির তরফে শুভেন্দুর প্রয়াত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করা হয়েছে। লড়াইয়ে রয়েছে বাম-আইএসএফ-সহ অন্য দলগুলিও। কিন্তু একদিকে প্রার্থীর জেলযাত্রা, অন্যদিকে তৃণমূলের সমর্থন এবং প্রার্থীর স্ত্রীর সোশাল মিডিয়া প্রোপাগান্ডায় এখন নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনী রাজনীতি তুঙ্গে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত