Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

SUVENDU KALIGHAT: বাগেশ্বরের নিদান উড়িয়ে কালীঘাটে মাছে-ভাতে মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
SUVENDU KALIGHAT: বাগেশ্বরের নিদান উড়িয়ে কালীঘাটে মাছে-ভাতে মুখ্যমন্ত্রী
কালীঘাটের ভোগঘরে মুখ্যমন্ত্রী। পাতে মাছের মাথা ও বাসন্তী পোলাও। ছবি: ফেসবুক

কলকাতা: কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে কলকাতার ঐতিহাসিক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলা বিতর্কিত ‘আমিষ-আহার’ অধ্যায়ের কার্যত যবনিকা টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন ভিনরাজ্যের স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নিদান ঘিরে বঙ্গ রাজনীতি থেকে সামাজিক মাধ্যম উত্তাল, ঠিক তখনই প্রথা মেনে মাকে পুজো নিবেদন করে ভোগপ্রসাদ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোজাসুজি মাটিতে বসে বাসন্তী পোলাওয়ের সঙ্গে মাছের মাথা এবং রুই মাছ ভাজা খেয়ে বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে কোনো বহিরাগত ফতোয়া খাটবে না।

ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত এক ধর্মীয় সভা থেকে। মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’ নাম না করে বাঙালি উৎসবের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তোপ দেগেছিলেন। তাঁর সাফ নিদান ছিল, দুর্গাপূজার মণ্ডপে বা ধর্মীয় উৎসবে বসে যাঁরা আমিষ আহার করেন, তাঁরা আসলে ‘পাষণ্ড’। এক ভিনরাজ্যের গুরুর এমন মন্তব্যের পরেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। দুর্গাপূজা ও সামাজিক উৎসবে মাছ-মাংসের বাঙালিয়ানা প্রথাকে একপ্রকার আক্রমণ করার অভিযোগে সরব হয় একাধিক মহল। ব্যাকফুটে চলে যেতে হয় বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকেও।

পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি আসরে নামতে হয়েছিল রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। তিনি স্পষ্ট দাবি করেছিলেন, বাংলায় মহানবমীতে পাঁঠার মাংস বা মাকে দেওয়া বলির মাংস গ্রহণ করার এক দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রেওয়াজ রয়েছে। এটাকে কোনও ভাবেই রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। একই সুরে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে তোপ দেগেছিলেন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিলীপ ঘোষও। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কার থালায় কী খাবার উঠবে, তা ঠিক করার অধিকার কোনো বহিরাগত গুরুর নেই।

কিন্তু রাজনৈতিক তরজা ও আইডেন্টিটি পলিটিক্সের সেই আগুনে একদম নিজস্ব ভঙ্গিতেই জল ঢাললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মায়ের উদ্দেশ্যে বিশেষ পুজো ও আরতি সম্পন্ন করার পর তিনি সরাসরি প্রবেশ করেন মন্দিরের ভোগঘরে। মাটিতে আসন পেতে বসে গ্রহণ করেন মায়ের মহাপ্রসাদ। পাতে ছিল পোলাও, শাক, চাটনি এবং বাঙালির অতি প্রিয় মাছের মাথা ও ভাজা মাছ। তৃপ্তি সহকারে প্রসাদ গ্রহণের সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।

ভোগ গ্রহণ শেষে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য অত্যন্ত চতুর ও পরিমিত জবাব দেন। বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি মুচকি হেসে জানান, “আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতা রয়েছে। একজন সন্ত তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতেই পারেন। সেটা যাঁর গ্রহণ করার ইচ্ছা তিনি করবেন, যাঁর করার নয় তিনি করবেন না। বাংলা তার নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মেনেই চলবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই চালকে রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কোনও চরম রাজনৈতিক সংঘাত না গিয়ে, স্রেফ কালীঘাটের ভোগে মাছের মাথা খেয়েই বাগেশ্বর বাবার ভক্তদের নিদান ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণে মাছ-ভাতের যে নিজস্ব মহিমা, তাতে যে শেষ কথা বলবে বঙ্গ সংস্কৃতিই। কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট থেকে স্পষ্ট বার্তা পেয়ে গেল পুরো রাজ্য।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

বিষয় : HiddenStoriesNews #HiddenStoriesNews #SuvenduAdhikari #KalighatTemple #BageshwarSarkar #KaushikiAmavasya #BengaliCulture #KolkataNews #WestBengalPolitics #WBNews #BreakingNewsBengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


SUVENDU KALIGHAT: বাগেশ্বরের নিদান উড়িয়ে কালীঘাটে মাছে-ভাতে মুখ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: কৌশিকী অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে কলকাতার ঐতিহাসিক কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চলা বিতর্কিত ‘আমিষ-আহার’ অধ্যায়ের কার্যত যবনিকা টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে যখন ভিনরাজ্যের স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নিদান ঘিরে বঙ্গ রাজনীতি থেকে সামাজিক মাধ্যম উত্তাল, ঠিক তখনই প্রথা মেনে মাকে পুজো নিবেদন করে ভোগপ্রসাদ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোজাসুজি মাটিতে বসে বাসন্তী পোলাওয়ের সঙ্গে মাছের মাথা এবং রুই মাছ ভাজা খেয়ে বুঝিয়ে দিলেন, বাংলার চিরাচরিত খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যে কোনো বহিরাগত ফতোয়া খাটবে না।ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় আয়োজিত এক ধর্মীয় সভা থেকে। মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে ‘বাগেশ্বর বাবা’ নাম না করে বাঙালি উৎসবের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তোপ দেগেছিলেন। তাঁর সাফ নিদান ছিল, দুর্গাপূজার মণ্ডপে বা ধর্মীয় উৎসবে বসে যাঁরা আমিষ আহার করেন, তাঁরা আসলে ‘পাষণ্ড’। এক ভিনরাজ্যের গুরুর এমন মন্তব্যের পরেই বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজ্য জুড়ে। দুর্গাপূজা ও সামাজিক উৎসবে মাছ-মাংসের বাঙালিয়ানা প্রথাকে একপ্রকার আক্রমণ করার অভিযোগে সরব হয় একাধিক মহল। ব্যাকফুটে চলে যেতে হয় বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকেও।পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি আসরে নামতে হয়েছিল রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। তিনি স্পষ্ট দাবি করেছিলেন, বাংলায় মহানবমীতে পাঁঠার মাংস বা মাকে দেওয়া বলির মাংস গ্রহণ করার এক দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রেওয়াজ রয়েছে। এটাকে কোনও ভাবেই রাতারাতি বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। একই সুরে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে তোপ দেগেছিলেন প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিলীপ ঘোষও। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, কার থালায় কী খাবার উঠবে, তা ঠিক করার অধিকার কোনো বহিরাগত গুরুর নেই।কিন্তু রাজনৈতিক তরজা ও আইডেন্টিটি পলিটিক্সের সেই আগুনে একদম নিজস্ব ভঙ্গিতেই জল ঢাললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মায়ের উদ্দেশ্যে বিশেষ পুজো ও আরতি সম্পন্ন করার পর তিনি সরাসরি প্রবেশ করেন মন্দিরের ভোগঘরে। মাটিতে আসন পেতে বসে গ্রহণ করেন মায়ের মহাপ্রসাদ। পাতে ছিল পোলাও, শাক, চাটনি এবং বাঙালির অতি প্রিয় মাছের মাথা ও ভাজা মাছ। তৃপ্তি সহকারে প্রসাদ গ্রহণের সেই ছবি মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।ভোগ গ্রহণ শেষে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য অত্যন্ত চতুর ও পরিমিত জবাব দেন। বাগেশ্বর বাবার প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি মুচকি হেসে জানান, “আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতা রয়েছে। একজন সন্ত তাঁর ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করতেই পারেন। সেটা যাঁর গ্রহণ করার ইচ্ছা তিনি করবেন, যাঁর করার নয় তিনি করবেন না। বাংলা তার নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মেনেই চলবে।”মুখ্যমন্ত্রীর এই চালকে রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কোনও চরম রাজনৈতিক সংঘাত না গিয়ে, স্রেফ কালীঘাটের ভোগে মাছের মাথা খেয়েই বাগেশ্বর বাবার ভক্তদের নিদান ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণে মাছ-ভাতের যে নিজস্ব মহিমা, তাতে যে শেষ কথা বলবে বঙ্গ সংস্কৃতিই। কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট থেকে স্পষ্ট বার্তা পেয়ে গেল পুরো রাজ্য।হিডেন স্টোরিজ নিউজ 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত