কলকাতা ও হাওড়া: রাজ্য রাজনীতিতে পট পরিবর্তনের পর চোরবাগান সর্বজনীনের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনা যেন গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়ে গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। প্রথম সপ্তমীর রাতের ওই বিপর্যয়ে প্রাণহানি ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সামনে রেখেই এবার আগাম সুরক্ষার বার্তা দিলেন তিনি।
বুধবার রাতে হাওড়ার শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে এক বিজয় সম্মেলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আগামী ২০২৭ সালের পুজোর অনেক আগে থেকেই এ রাজ্যে কঠোর নিরাপত্তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, চোরবাগানের ক্ষত মুখ্যমন্ত্রীকে কতটা ভাবিয়েছে, হাওড়ার মঞ্চ থেকে তাঁর এই আগাম ঘোষণাই তার স্পষ্ট প্রমাণ। পাশাপাশি, গোটা রাজ্যবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছে এই ভয়াবহ ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য।
পুজোর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা গোটা রাজ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছিল। এই প্রসঙ্গে শ্যামপুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আনন্দের মধ্য বেদনা হয়েছে। চোরবাগানে মানুষের ভুলে বেশ কয়েকজনকে হারাতে হয়েছে। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার অঙ্গীকার নিতে চাই।”
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে রাজ্য। দলে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি, এনডিআরএফের সদস্য, স্বরাষ্ট্র দফতর এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি।
আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। মণ্ডপের ধারণক্ষমতা, বৃষ্টির প্রভাব, নাকি মণ্ডপ ভেঙে পড়ার কোনও গুজব, ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখবে এই সিট। ঘটনার পর জিরো টলারেন্সের নীতি নিয়ে কলকাতা পুলিশ ও পুরসভাকে বাদ দিয়ে একটি পৃথক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমও গঠন করা হয়েছে।
এদিন শ্যামপুরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় ১৪ বেডের প্রাথমিক হেলথ সেন্টারকে ১০০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হবে, যেখানে আল্টাসনোগ্রাফি ও এক্স-রের ব্যবস্থাও থাকবে।
পাশাপাশি সাইক্লোন প্রবণ এলাকার নদী বাঁধ ভাঙন রোধ, কাঠের ব্রিজগুলিকে পাকা করা এবং বোয়ালিয়ায় একটি বড় ব্রিজ তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান। রাজ্যে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, আগামী বছরের ৮ মের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ১ লক্ষ যুবক-যুবতীর চাকরি হবে। পঞ্চায়েতগুলিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিটি এলাকায় ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আবাস যোজনার আওতায় আরও ২৫ লক্ষ নতুন বাড়ি তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন