বারাসত: একের পর এক হেভিওয়েটের পর এবার কি তবে রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের শ্রীঘরে যাওয়ার পালা? গত মে মাস থেকে যাঁর খোঁজ মিলছিল না, সেই অরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে তৈরি হলো চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। বারাসত জেলা আদালতে নিজের আগাম জামিনের মামলার শুনানির দিনই আচমকা ১০০ ডিগ্রি সিদ্ধান্ত বদল করলেন এই দাপুটে নেতা। আদালতে শুনানি শুরু হওয়ার ঠিক আগেই আইনি লড়াই থেকে কার্যত হাত গুটিয়ে নিলেন তিনি। বিপদ বুঝেই অরূপের এই আকস্মিক পিছু হঠার সিদ্ধান্ত ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৭ মে, যখন কিংবদন্তি ফুটবলার লিওনেল মেসির একটি হাইপ্রোফাইল ইভেন্টের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় বিস্ফোরক অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআর-এ টিকিটের কালোবাজারি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা, ভয় দেখানো এবং প্রতারণাসহ একাধিক মারাত্মক ধারা যুক্ত করা হয়। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সমন পাঠায়। তবে প্রথম দফায় হাজিরা এড়িয়ে তীব্র অসুস্থতার দোহাই দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ১০ দিনের সময় চেয়ে নেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এর পর থেকেই তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান, যা দেখে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে— তিনি কি সত্যিই অসুস্থ, নাকি গ্রেফতারির ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন?
অভিষেককে সরিয়ে নতুন দলনেতা কাকলি?
পুলিশি গ্রেফতারি এড়াতে শেষমেশ বারাসত জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা জজের এজলাসে সেই অতীব গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল হতেই আদালতের ভেতরে নাটকীয় মোড় নেয়। অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীরা বিচারকের কাছে গিয়ে আবেদনটি ‘নট প্রেস’ করার অনুরোধ জানান। আইনি ভাষায় যার অর্থ হলো, তাঁরা এই মুহূর্তে জেলা আদালতে মামলাটি আর লড়তে বা উপস্থাপন করতে চান না। আদালত সূত্রে খবর, নিম্ন আদালতে ধাক্কা খাওয়ার বা আগাম জামিন খারিজ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থেকেই এই কৌশল নিয়েছেন মন্ত্রী। জেলা আদালতকে এড়িয়ে তাঁরা এখন তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছেন।
প্রাক্তন মন্ত্রীর এই আকস্মিক পিছু হঠাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন এই মামলার সরকারি আইনজীবী দুলাল সরকার। তিনি স্পষ্ট জানান, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে যে সমস্ত অকাট্য তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তাতে জেলা আদালত থেকে তাঁর আগাম জামিন পাওয়ার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না। সেই চরম বিপদ আন্দাজ করতে পেরেই শেষ মুহূর্তে তাঁরা মামলা তুলে নিয়ে রণে ভঙ্গ দিলেন। তবে জেলা আদালত থেকে মামলা সরালেও পুলিশের হাত থেকে অরূপ বিশ্বাস কতদিন রেহাই পাবেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে পুলিশের স্ক্যানার, অন্যদিকে হাইকোর্টে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা— সব মিলিয়ে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুন ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন