Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

'ফল পাবে, শীঘ্রই উত্তর পাবে!' দল ছাড়ার হিড়িকের মাঝেই বিস্ফোরক কবিতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর!

'ফল পাবে, শীঘ্রই উত্তর পাবে!' দল ছাড়ার হিড়িকের মাঝেই বিস্ফোরক কবিতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর!
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যখন একের পর এক উইকেট পড়ার হিড়িক লেগেছে, ঠিক তখনই দলবদলু ও রঙ বদলানো নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক কবিতা পোস্ট করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর ফেসবুক ও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট হওয়া এই কবিতার শিরোনাম ‘গিরগিটি’। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই কবিতা নিয়ে তুমুল জল্পনা ও তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। 


ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট মত, নাম না করলেও এতদিন যাঁদের নিয়ে মমতা দল চালিয়েছেন এবং যাঁদের সেনাপতি হিসেবে সামনে রেখে লড়াই করেছেন, সেই সমস্ত ভোলবদলু নেতাদের উদ্দেশ্যেই কার্যত এই খোলা চিঠি লিখেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কবিতার প্রথম লাইনেই তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে লিখেছেন, ‘গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর।’ কবিতার ছত্রে ছত্রে তাঁর সেই সমস্ত সহকর্মীদেরই নিশানা করা হয়েছে, যাঁরা ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভোল বদলে ফেলছেন।


তৃণমূল শিবিরের এই চরম দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে উঠে এসেছে এক গভীর অভিমান ও তীব্র প্রতিবাদের সুর। কবিতায় তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আর কত নেবে চরিত্র বদলাতে? আর কত চাও? নিজেদের ভোল বদলাতে?’ তাঁর এই লেখার মধ্যে দিয়ে কেউ কেউ টাকা নিয়ে বা কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে ভোলবদল করছেন—এমন ইঙ্গিতও কিন্তু বেশ স্পষ্ট।


 আসলে বিগত কয়েকদিনে জোড়াফুল শিবিরের হেভিওয়েটদের যেভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদ ছাড়তে দেখা গিয়েছে, তাতেই মমতার এই কবিতা লেখার উৎস বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার ওপর আজ, বুধবারই বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা তথা মেয়র পারিষদ সুশান্ত ঘোষ। একই পথ অনুসরণ করে পদ ছেড়েছেন তৃণমূলের অন্যতম চেনা মুখ ও মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও। যে অরূপকে এতদিন সংবাদমাধ্যমের টক-শো-তে তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটাতে দেখা যেত, আজ তাঁর গলাতেই শোনা গিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা।


নেতৃত্বের এমন ভোলবদল দেখে স্বভাবতই মর্মাহত তৃণমূল নেত্রী। তবে কবিতার শেষ লাইনে দলবদলু এই ‘গিরগিটি’দের কড়া ভাষায় সতর্ক ও হুঁশিয়ারি দিতে ভোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বাসঘাতকতার ফল যে একদিন তাঁদের ভুগতেই হবে, সেই বার্তা দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ফল পাবে, ধৈর্য ধর, শীঘ্রই উত্তর পাবে।’


 উল্লেখ্য, এর আগে ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক পরেই ‘দখল’ শিরোনামে আরও একটি কবিতা লিখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কবিতায় মূলত বিজেপির বুলডোজার সংস্কৃতি, অত্যাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘শতশত গ্রেপ্তার কেন? মানুষ কেন আতঙ্কিত?’ আর এবার বহিরাগত শত্রুর চেয়েও ঘরের ভেতরের বিভীষণদের ওপর যে তাঁর রাগ ও অভিমান অনেক বেশি, তা ‘গিরগিটি’ কবিতার ছত্রে ছত্রে বুঝিয়ে দিলেন মমতা।

বিষয় : Mamata Banerjee BengalPolitics KolkataNews girgitipoem tmcleaderresign mamatapoem

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


'ফল পাবে, শীঘ্রই উত্তর পাবে!' দল ছাড়ার হিড়িকের মাঝেই বিস্ফোরক কবিতা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর!

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে যখন একের পর এক উইকেট পড়ার হিড়িক লেগেছে, ঠিক তখনই দলবদলু ও রঙ বদলানো নেতাদের তীব্র আক্রমণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিস্ফোরক কবিতা পোস্ট করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর ফেসবুক ও এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট হওয়া এই কবিতার শিরোনাম ‘গিরগিটি’। রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই কবিতা নিয়ে তুমুল জল্পনা ও তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট মত, নাম না করলেও এতদিন যাঁদের নিয়ে মমতা দল চালিয়েছেন এবং যাঁদের সেনাপতি হিসেবে সামনে রেখে লড়াই করেছেন, সেই সমস্ত ভোলবদলু নেতাদের উদ্দেশ্যেই কার্যত এই খোলা চিঠি লিখেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কবিতার প্রথম লাইনেই তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে লিখেছেন, ‘গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর।’ কবিতার ছত্রে ছত্রে তাঁর সেই সমস্ত সহকর্মীদেরই নিশানা করা হয়েছে, যাঁরা ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘণ্টায় ঘণ্টায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভোল বদলে ফেলছেন।তৃণমূল শিবিরের এই চরম দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে উঠে এসেছে এক গভীর অভিমান ও তীব্র প্রতিবাদের সুর। কবিতায় তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আর কত নেবে চরিত্র বদলাতে? আর কত চাও? নিজেদের ভোল বদলাতে?’ তাঁর এই লেখার মধ্যে দিয়ে কেউ কেউ টাকা নিয়ে বা কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে ভোলবদল করছেন—এমন ইঙ্গিতও কিন্তু বেশ স্পষ্ট। আসলে বিগত কয়েকদিনে জোড়াফুল শিবিরের হেভিওয়েটদের যেভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পদ ছাড়তে দেখা গিয়েছে, তাতেই মমতার এই কবিতা লেখার উৎস বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তার ওপর আজ, বুধবারই বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের দাপুটে নেতা তথা মেয়র পারিষদ সুশান্ত ঘোষ। একই পথ অনুসরণ করে পদ ছেড়েছেন তৃণমূলের অন্যতম চেনা মুখ ও মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীও। যে অরূপকে এতদিন সংবাদমাধ্যমের টক-শো-তে তৃণমূলের হয়ে গলা ফাটাতে দেখা যেত, আজ তাঁর গলাতেই শোনা গিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা।নেতৃত্বের এমন ভোলবদল দেখে স্বভাবতই মর্মাহত তৃণমূল নেত্রী। তবে কবিতার শেষ লাইনে দলবদলু এই ‘গিরগিটি’দের কড়া ভাষায় সতর্ক ও হুঁশিয়ারি দিতে ভোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বাসঘাতকতার ফল যে একদিন তাঁদের ভুগতেই হবে, সেই বার্তা দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ফল পাবে, ধৈর্য ধর, শীঘ্রই উত্তর পাবে।’ উল্লেখ্য, এর আগে ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক পরেই ‘দখল’ শিরোনামে আরও একটি কবিতা লিখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কবিতায় মূলত বিজেপির বুলডোজার সংস্কৃতি, অত্যাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘শতশত গ্রেপ্তার কেন? মানুষ কেন আতঙ্কিত?’ আর এবার বহিরাগত শত্রুর চেয়েও ঘরের ভেতরের বিভীষণদের ওপর যে তাঁর রাগ ও অভিমান অনেক বেশি, তা ‘গিরগিটি’ কবিতার ছত্রে ছত্রে বুঝিয়ে দিলেন মমতা।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার