একসময়ের চর্চিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম এবার শ্রীঘরে। বিয়ের প্রলোভন ও চলচ্চিত্রে নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণ ও অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক থেকে নাটকীয়ভাবে ধাওয়া করে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, হিরো আলমের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নিজের প্রাইভেট কারে চড়ে তিনি ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ পিছু ধাওয়া করে তাঁকে শাজাহানপুর থানার সামনে থেকে গ্রেফতার করে এবং সরাসরি আদালতে পাঠায়।
মামলার অভিযোগটি রীতিমতো হাড়হিম করা। গত বছর মে মাসে এক তরুণী হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাঁর দাবি, নায়িকা করার টোপ দিয়ে আলম তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এমনকি মৌলভি ডেকে ভুয়ো বিয়ের নাটক করে তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল বগুড়ায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের ফলে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তরুণীটির গর্ভপাত ঘটে এবং তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কেবল শারীরিক নির্যাতনই নয়, সিনেমা বানানোর নাম করে ওই তরুণীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন হিরো আলম, যা তিনি আর ফেরত দেননি। তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (PBI) আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার পরই আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। যদিও তদন্তে ক্লিন চিট পেয়েছেন মামলার বাকি ৫ জন অভিযুক্ত।
রিল লাইফের 'হিরো' রিয়েল লাইফে এমন জঘন্য অপরাধের সাথে যুক্ত থাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে ওপার বাংলায়। আইন এখন আলমের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন