ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে জনমত বদলে দেওয়ার এক ভয়ংকর কৌশলের অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ইসলামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৯টি সংসদীয় আসনে স্থানীয় ভোটারদের বদলে কয়েক লাখ ‘বহিরাগত’ ভোটার তালিকায় নাম তুলে ভোটের ফলাফল নিজেদের অনুকূলে আনার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট ৯টি আসনে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ এমন নতুন ভোটার যুক্ত করা হয়েছে, যাদের ওই সব এলাকায় কোনও স্থায়ী বসতি বা ঘরবাড়ি নেই। বিশেষজ্ঞরা একে পরিকল্পিত ‘ভোট হিজরত’ বা রাজনৈতিক মাইগ্রেশন বলে অভিহিত করছেন।
টার্গেট করা হয়েছে যে ৯টি আসন:
১. ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১১
২. লক্ষ্মীপুর-২ ও লক্ষ্মীপুর-৩
৩. নোয়াখালী-৪ ও নোয়াখালী-৫
৪. পটুয়াখালী-১ ও পটুয়াখালী-২
৫. মুন্সিগঞ্জ-২
অভিযোগ উঠেছে, জামায়াতের অনুগত ক্যাডার এবং সমর্থকদের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এনে নির্দিষ্ট এলাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নিবন্ধন করানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় হঠাৎ করেই অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বেড়েছে যারা আদতে বহিরাগত। নির্বাচনে স্থানীয় জনমতের প্রতিফলন রুখে দিতেই এই ‘আমদানিকৃত’ ভোটারদের ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আসনগুলো কৌশলগতভাবে জামায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় নিজেদের সাংগঠনিক আধিপত্য বজায় রাখা এবং নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর বেল্টে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই এই বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ভোটার তৈরি করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার এই অস্বাভাবিক স্ফীতি জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সচেতন নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ৯টি আসনের ভোটার তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। যদি এই ‘নীলনকশা’ নস্যাৎ করা না যায়, তবে আগামী নির্বাচন চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন