Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে ভাসল গাড়ি, পুঞ্চ ও রাজৌরিতে বাড়ি ধসে মৃত অন্তত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬
মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে ভাসল গাড়ি, পুঞ্চ ও রাজৌরিতে বাড়ি ধসে মৃত অন্তত ১০
ছবি সংগৃহীত

শ্রীনগর: অতিবৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরে তৈরি হয়েছে এক চরম বিপর্যয়কর বন্যা পরিস্থিতি। শনি ও রবিবার জুড়ে চলা নাগাড়ী বর্ষণের জেরে রাজৌরি, পুঞ্চ-সহ উপত্যকার একাধিক জেলা কার্যত জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে। সমস্ত প্রধান নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় রাজৌরির নিচু এলাকাগুলি সম্পূর্ণরূপে জলমগ্ন। 


এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। কাশ্মীরের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দিল্লির বুকে চলা রাজনৈতিক লড়াই আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনা-বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন তিনি, তবে ঘরের এই কঠিন পরিস্থিতিতে অবস্থান কর্মসূচি বাতিল করে তড়িঘড়ি শ্রীনগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


আবহাওয়া দপ্তরের ভারী বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাসকে সত্যি করেই গত শুক্রবার থেকে উপত্যকায় শুরু হয় মেঘভাঙা বৃষ্টির তাণ্ডব। দারহালি, খান্দালি, সুকতোহ এবং জামোলা নদীর জলস্তর ফুলেফেঁপে উঠে বিপদসীমা পার করে যায়। এর মধ্যেই দারহালি নদীর একটি বড় বাঁধ ভেঙে প্লাবনের জল সরাসরি বাসস্ট্যান্ডের পার্কিং লটে ঢুকে পড়ে এবং চোখের নিমেষে বহু যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একের পর এক বিপর্যয় নেমে আসে পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায়। পুঞ্চে আচমকা বাড়ি ধসে পড়ে একই সাথে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, অন্যদিকে রাজৌরিতে ভয়ংকর ভূমিধ্বসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও একজন। দুই জেলা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, যাদের সন্ধানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। বহু পরিবারকে ইতিমধ্যে প্লাবিত অঞ্চল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

দু'ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঝাড়গ্রামে ভোগান্তি, জলের তলায় কজওয়ে ও রাস্তা


স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে কাজে বাধা আসছে। এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, তা প্রাথমিক চিত্র দেখেই স্পষ্ট। তবে প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এখনই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক আর্থিক বা পরিকাঠামোগত পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়, বন্যার জল নামলে তবেই সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান বিশদে খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা শ্রীনগরে ফিরেই প্রশাসনিক স্তরে জরুরি বৈঠক করতে পারেন এবং উদ্ধারকাজের তদারকি সরাসরি নিজের হাতে নিতে পারেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

বিষয় : jammukashmir naturaldisaster omarabdullah cloudburst KASHMIRFLOODS

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬


মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বাঁধ ভেঙে ভাসল গাড়ি, পুঞ্চ ও রাজৌরিতে বাড়ি ধসে মৃত অন্তত ১০

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image
শ্রীনগর: অতিবৃষ্টি ও হড়পা বানের জেরে জম্মু ও কাশ্মীরে তৈরি হয়েছে এক চরম বিপর্যয়কর বন্যা পরিস্থিতি। শনি ও রবিবার জুড়ে চলা নাগাড়ী বর্ষণের জেরে রাজৌরি, পুঞ্চ-সহ উপত্যকার একাধিক জেলা কার্যত জলের নিচে তলিয়ে গিয়েছে। সমস্ত প্রধান নদীর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় রাজৌরির নিচু এলাকাগুলি সম্পূর্ণরূপে জলমগ্ন। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, পাশাপাশি নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। কাশ্মীরের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দিল্লির বুকে চলা রাজনৈতিক লড়াই আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধরনা-বিক্ষোভ চালাচ্ছিলেন তিনি, তবে ঘরের এই কঠিন পরিস্থিতিতে অবস্থান কর্মসূচি বাতিল করে তড়িঘড়ি শ্রীনগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।আবহাওয়া দপ্তরের ভারী বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাসকে সত্যি করেই গত শুক্রবার থেকে উপত্যকায় শুরু হয় মেঘভাঙা বৃষ্টির তাণ্ডব। দারহালি, খান্দালি, সুকতোহ এবং জামোলা নদীর জলস্তর ফুলেফেঁপে উঠে বিপদসীমা পার করে যায়। এর মধ্যেই দারহালি নদীর একটি বড় বাঁধ ভেঙে প্লাবনের জল সরাসরি বাসস্ট্যান্ডের পার্কিং লটে ঢুকে পড়ে এবং চোখের নিমেষে বহু যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়। একের পর এক বিপর্যয় নেমে আসে পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায়। পুঞ্চে আচমকা বাড়ি ধসে পড়ে একই সাথে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, অন্যদিকে রাজৌরিতে ভয়ংকর ভূমিধ্বসের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও একজন। দুই জেলা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, যাদের সন্ধানে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। বহু পরিবারকে ইতিমধ্যে প্লাবিত অঞ্চল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।দু'ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ঝাড়গ্রামে ভোগান্তি, জলের তলায় কজওয়ে ও রাস্তাস্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো হলেও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে কাজে বাধা আসছে। এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, তা প্রাথমিক চিত্র দেখেই স্পষ্ট। তবে প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এখনই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক আর্থিক বা পরিকাঠামোগত পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়, বন্যার জল নামলে তবেই সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান বিশদে খতিয়ে দেখা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা শ্রীনগরে ফিরেই প্রশাসনিক স্তরে জরুরি বৈঠক করতে পারেন এবং উদ্ধারকাজের তদারকি সরাসরি নিজের হাতে নিতে পারেন বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার